TRENDS

একদা মাওবাদী এলাকায় ‘এরিয়া ডোমিনেশন’ নিয়ে দুই হাতির ধুন্দুমার লড়াইয়ে ত্রস্ত শালবনী

Abhirup Maity
একদা মাওবাদী এলাকায় 'এরিয়া ডোমিনেশন' নিয়ে দুই হাতির ধুন্দুমার লড়াইয়ে ত্রস্ত শালবনী

নিজস্ব সংবাদদাতা: এক সময় এরিয়া ডোমিনেশন কথাটা মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলমহলে খুব চালু ছিল। মাওবাদীদের হাত থেকে জঙ্গলের দখল নিতে মরিয়া যৌথ বাহিনী আর অন্যদিকে জঙ্গল নিজের দখলে রাখার জন্য মাওবাদীদের মরিয়া চেষ্টার নামই ছিল এরিয়া ডোমিনেশন যার চলতি নাম এলাকা দখল। শনিবার সেই এরিয়া ডোমিনেশনের লড়াইতে উত্তপ্ত হয়ে উঠলো জঙ্গলমহলের শালবনী থানার জামিরগোট বীরঘোষার জঙ্গল। একদা মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় দুই দাঁতালের ঘন্টা খানেকের লড়াইয়ের স্বাক্ষী থাকল কয়েকশ মানুষ।
               একদা মাওবাদী এলাকায় 'এরিয়া ডোমিনেশন' নিয়ে দুই হাতির ধুন্দুমার লড়াইয়ে ত্রস্ত শালবনী
লালগড় রেঞ্জের অন্তর্গত ঝিটকার জঙ্গল ও পিড়াকাটা রেঞ্জের জামিরগোটের জঙ্গলের স্ট্রাটেজিক পয়েন্টের এই লড়াইকে অত্যন্ত নজির বিহীন ও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে জামিরগোটের জঙ্গলে দীর্ঘদিন ধরেই একটি আবাসিক দাঁতাল রয়েছে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
দলমা থেকে এসে দলছুট হয়ে যে হাতি দলমার জঙ্গলে ফিরে না গিয়ে থেকে যায় তাদেরই বলে আবাসিক বা রেসিডেন্সিয়াল হাতি। এটি কয়েকবছর ধরেই জামিরগোট , বীরঘোষা সহ সংলগ্ন জঙ্গলে রয়েছে। এলাকাটি শালবনীর অন্তর্গত।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
অন্যদিকে ঝিটকার জঙ্গলে বেশ কয়েকদিন ধরেই দলমা থেকে আসা প্রায় ৭৫টি বুনো হাতি আস্তানা গেড়েছে। এই হাতির পালটি শনিবার সকালে লালগড়ের দিক থেকে  জামিরগোটের জঙ্গল এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় আবাসিক হাতিটি।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
৭৫টি হাতির পালের সর্দার দাঁতাল হাতিটির সঙ্গে লড়াই বেধে যায় আবাসিক দাঁতালটির । দুই হাতির সুতিক্ষ্ণ বৃংহন আর গর্জনে কেঁপে ওঠে আশেপাশের গ্রামগুলি। লড়াই দেখার জন্য এলাকার মানুষ ভিড় জমায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বনদপ্তরের আধিকারিকরা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
এক আধিকারিক বলেন,  ‘ লড়াই আপাতত বন্ধ হলেও এই লড়াই দুটি হাতিই বেশ ভালো রকমের জখম হয়েছে। একটি হাতির দাঁতও ভেঙ্গে যায়। আমরা চাইছি হাতি দুটি কে আলাদা আলাদা ভাবে অন্য কোনো দিকে নিয়ে যাওয়ার।’তবে ‘একা কুম্ভ রক্ষা করে নকল বুঁদির গড়’ য়ের মতই আবাসিক হাতিটি রুখে দিয়েছে বুনো হাতির পালের আগ্রাসন।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ফলে স্বস্তিতে ওই এলাকার মানুষ কারন ৭৫টি হাতির পাল শালবনীর অংশে ঢুকে পড়লে ফসলের দফারফা। বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, সাধারনভাবে হস্তিনীর দখল নিয়েই দুই দাঁতালের লড়াই লক্ষ্য করা যায় কিন্তু এরিয়া ডোমিনেশন নিয়ে হাতির লড়াই এই এলাকায় প্রথম নজরে এল। 

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join