TRENDS

বিশ্বভারতীর মেলার মাঠে পাঁচিল তোলা নিয়ে রণক্ষেত্র, প্রধানমন্ত্রীর দফতরে নালিশ উপাচার্যের

Abhirup Maity

ওয়েব ডেস্ক : সোমবার বিশ্বভারতীর মেলার মাঠে পাঁচিল তোলা নিয়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বিশ্বভারতী চত্বর। এবার সেই বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছতে চলেছে রাজধানীতে। এই নজিরহীন ঘটনার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দফতরে নালিশ জানাবে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তবে সোমবারের বিক্ষোভে শুধুমাত্র স্থানীয়দের যোগ নয়, এর সাথে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক যোগ রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এবিষয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয়দের পাঁচিল ভাঙার নেপথ্যে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের উসকানি রয়েছে। এবে এদিকে অশান্তির জট কাটাতে না কাটতেই বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসার কথা জানিয়েছেন বীরভূমের জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা। এদিনের বৈঠকে জেলা শাসকের তফে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকেও যোগ দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। সবমিলিয়ে এই মূহুর্তে বিশ্বভারতী ও মেলার মাঠ চত্বরের যা অবস্থা, তাতে বোঝার উপায় নেই যে এটি কবিগুরুর প্রাণের শহর।

পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল তোলা হচ্ছিল, সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বোলপুরের পৌষ মেলা মাঠ চত্বর। বিক্ষুব্ধ জনতা উপাচার্যের নির্দেশে অর্ধেক তৈরি হওয়া পাঁচিলটি জেসিবি মেশিন দিয়ে ভেঙে ফেলেন। এদিন সকাল থেকেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এদিনের এই ঘটনায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কারও দেখা মেলেনি। এরপর বেলা গড়াতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে শুরু করে মুক্ত শিক্ষাঙ্গনে কেন পাঁচিল দেওয়া হচ্ছে, এই প্রতিবাদে মাঠে নামেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা। পড়ুয়াদের তরফে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান বিক্ষোভ করা হয়৷ এভাবে রাতভর অবস্থান বিক্ষোভ চলার পর শেষমেশ সকালে বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়।
এই ঘটনায় উপাচার্যের তরফে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার অভিযোগ, পরিস্থিতি চূড়ান্ত খারাপ হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তবে শুধুমাত্র পুলিশই নয় এই ঘটনায় উপাচার্যের অভিযোগ, সোমবার দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউড়ির উসকানিতেই স্থানীয়রা পে লোডার এনে পাঁচিল ভাঙার কাজে স্থানীয়দের দিয়েছিলেন ।

এই ঘটনায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে সোমবারের ঘটনার সাথে জড়িত একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে শান্তিনিকেতন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুবরাজপুরের বিধায়ক নরেশ বাউড়ির পাশাপাশি ওই তালিকায় নাম রয়েছে বোলপুর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার ওমর শেখ, সুকান্ত হাজরা, নেতা দেবব্রত সরকার, চন্দন সামন্ত, সুনীল সিং, সুব্রত ভকত, আমিনুল হুদা। এদের সকলের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তিতে পরিকল্পিত ভাঙচুর, লুটপাট, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি সোমবারের ঘটনার অভিযোগ করে ইতিমধ্যেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join