TRENDS

নির্বাচনের মুখে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যে সরকার! বাতিল করা হল আপার-প্রাইমারির প্যানেল, নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: আর মাস ছয়েকের মধ্যে বিধানসভার নির্বাচন। তৃতীয়বার সরকার গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন মনমোহনী কর্মসূচি নিচ্ছেন তৃনমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার। বেকার যুবকদের তুষ্ট করতে ঘোষনা করা হচ্ছে একাধিক কর্মসংস্থানের প্রকল্প কিন্তু তার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল সরকার। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট এক রায়ে আপার-প্রাইমারি বা উচ্চ প্রাথমিকের সমস্ত প্যানেল বাতিল বলে ঘোষণা করলেন এরফলে বিশবাঁও জলে পড়ল নিয়োগ প্রক্রিয়া। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে রায়ে বলা হয়েছে ২০১৬ সালের শুরু হওয়া ওই প্রক্রিয়ার পুরোটাই বাতিল করতে হবে।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেরিয়েছিল এই নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি। মেধাতালিকা প্রকাশের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বহু চাকুরি প্রার্থী। তাঁরা দাবি করতে থাকেন ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে এই নিয়োগকে ঘিরে। যোগ্যতামান না থাকা স্বত্ত্বেও অনেকের নাম উঠেছে। মামলা যায় আদালতে। দীর্ঘ শুনানির পর আপার প্রাথমিকের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট। এই রায় দেন বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্য। প্যানেল থেকে মেধাতালিকা সহ সমস্ত কিছু বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নির্বাচনের পূর্বে এই রায়ে মাথায় বাজ পড়ল রাজ্য সরকারের বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।একেবারে প্রথম থেকে ফের শুরু করতে হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া।

উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০১১ ও ২০১৫ সালে টেট হয়েছিল।টিচার এলিজিবিটি টেস্ট (Teacher Eligibity Test) বা টেটে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছিলেন তাঁদের ভেরিফিকেশনের জন্য ২০১৬ সালে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। ওই তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৯ সালে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হয়।
২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উচ্চপ্রাথমিকে নিয়োগের জন্য জারি হয়েছিল বিজ্ঞপ্তি। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, পরীক্ষার মেধাতালিকা ও প্যানেল তৈরিতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ন্যূনতম যোগ্যতা নিয়ে উত্তীর্ণ হননি এমন প্রার্থীদের নামও রয়েছে প্যানেলে। পরীক্ষা ভালো দিয়েও নাম নেই বহু যোগ্য প্রার্থীর।

এই অভিযোগ তুলে গত বছর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পরীক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্য বলেন, উচ্চপ্রাথমিকে নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যোগ্য প্রার্থীরা সুযোগ পান এই স্তরে।সমস্ত নিয়োগপ্রক্রিয়াকে বাতিল ঘোষণা করছে আদালত। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নথি যাচাই থেকে নতুন করে শুরু করতে হবে নিয়োগপ্রক্রিয়া। তার পর তৈরি করতে হবে নতুন মেধাতালিকা ও নতুন প্যানেল। সেই প্যানেলের ভিত্তিতে নিয়োগ করতে হবে যোগ্য প্রার্থীদের।
কোর্টের এই রায়ে খুশি মামলাকারীরা।তবে হতাশ যারা যোগ্য প্রার্থী।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join