TRENDS

করোনার ভয়ে শিশুদের দিয়ে খাল থেকে তোলানো হচ্ছে লাশ, ভাইরাল ভিডিওতে মুখ পুড়ল পুলিশের

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: শিশুদের দিয়ে খাল থেকে পচা গলা লাশ তুলিয়ে বিতর্কে পড়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। মোবাইল ফোনের কল্যানে এই অমানবিক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন দেশের মানুষ। ঘটনায় ছি ছিৎকার পড়ে গেছে যোগী আদিত্যানাথের পুলিশের বিরুদ্ধে। উত্তর প্রদেশের পুলিশকর্মীদের একটি খাল থেকে শিশুদের দিয়ে পচা-গলা মৃতদেহ তোলানোর দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। চাপে পড়ে অভিযুক্ত দুই পুলিশকর্মীকে বদলি করে দেওয়া হলেও বিতর্ককে ধামাচাপা দেওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকালে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের ভালিপুর গাং ক্যানেলে। ক্যানেলের জলে একটি পচা-গলা মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন স্থানীয় থানার এক সাব ইনস্পেক্টর ও কনস্টেবল। তারপর ওই এলাকার চার জন শিশুকে চাপ দিয়ে লাঠি ও দড়ির সাহায্যে মৃতদেহটি খালের ধারে টেনে আনতে বলেন। ওই শিশুগুলি যখন এই কাজ করছিল তখন পুরো বিষয়টির ভিডিও করেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। পরে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে দেন। আর সেটি ভাইরাল হতেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের পুলিশ লাইনে বদলি করার হলেও কোনও লাভ হয়নি।

এপ্রসঙ্গে বুলন্দশহরের সিনিয়র পুলিশ সুপার সন্তোষ সিং বলেন, ‘ভিডিওটি দেখার পরেই অভিযুক্ত দুই পুলিশকর্মী সাব ইনস্পেক্টর রাম নরেশ ও কনস্টেবল মহাবীরকে পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সার্কেল ইনস্পেক্টরকে এই ঘটনার তদন্তের কাজে লাগানো হয়েছে। ওই পুলিশকর্মীরা কেন এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেন তা জানার চেষ্টা চলছে। তবে যাই হোক বিষয়টি খুব বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।’

জানা গেছে করোনার ভয়ে নিজেরা লাশটিকে উদ্ধার না করে হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের দিয়ে এই কাজ করাচ্ছিল পুলিশ। এর আগেও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ শিশুদের দিয়ে এরকম অনৈতিক কাজ করানোয় অভিযুক্ত হয়েছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join