TRENDS

উঠে গেল নাইট কার্ফু, আনলক-থ্রি অনেকটাই স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা

Chandramani Saha

ওয়েব ডেস্ক : করোনা সংক্রমণ রুখতে ৪ মাস আগে জারি করা হয়েছিল লকডাউন। এর জেরে দেশের অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে তিন পর্যায়ে আনলক পর্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক দিক সচল রাখতে চেয়েছিল কেন্দ্র সরকার। ইতিমধ্যেই আনলক ১ ও ২ শেষ হয়ে গিয়েছে। আগামীকাল অর্থাৎ ১লা আগষ্ট থেকে শুরু হতে আনলক ৩।

কেন্দ্রের তরফে ইতিমধ্যেই সেই গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে৷ তবে যেটা দেখার বিষয় তা হল, আনলক ১ এ সন্ধ্যে ৭ টা থেকে ভোর ৫ পর্যন্ত ও আনলক ২ তে রাত ৯ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত নাইট কার্ফু জারি করেছিল কেন্দ্র। একই পথে হেঁটেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু আনলক ৩ এর গাইডলাইনে নেই নাইট কার্ফুর উল্লেখ। ফলে ধরেই নেওয়া যাচ্ছে আনলক ৩ তে আর থাকছে না নাইট কার্ফু। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই উপকৃত হবেন ব্যাবসায়ীরা৷ তবে আগস্টের শুরু থেকে কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে ছাড় আর কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় মিলবে না, ইতিমধ্যেই সে সম্পর্কিত নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছেন, আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে লকডাউন জারি থাকবে। একই সাথে আনলক পর্যায় চললেও কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে জারি থাকবে লকডাউন। কন্টেনমেন্ট জোন নয় এমন জায়গাগুলিতে
যেকোনও রকমের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে সংযুক্ত কাজকর্মে কোনও বাধা থাকবে না। একই সাথে আগের মতই খোলা থাকবে ওষুধের দোকান। পরিষেবা মিলবে আইনী বিষয়ে ও দমকলে। স্বাভাবিক থাকবে বিদ্যুৎ, জলের মতো জরুরি পরিষেবা।

শিল্পক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইন-হাউস কর্মীদের কাজে লাগানো যেতে পারে৷ চাষবাস ও চা বাগানে কাজে বিধিনিষেধ নেই। এই পর্যায়ে আন্তঃরাজ্য জিনিসপত্র পরিবহণে ছাড় দেওয়া হয়েছে৷ আরবিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী কাজ চলবে ই-কমার্সে। ছাড় মিলবে সংবাদমাধ্যম, সংবাদপত্রে৷ রান্না করা খাবার হোম ডেলিভারি করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে৷ একই সাথে কেন্দ্রের নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৫ আগস্ট থেকে খুলে যাচ্ছে যোগা সেন্টার এবং জিম। তবে কনটেনমেন্ট জোনের ভিতর কোনো যোগা সেন্টার কিংবা জিম থাকলে তা খোলা যাবে না।

তবে এতকিছুর মাঝেও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে আনলক ৩ পর্যায়েও ছাড় দেয়নি কেন্দ্র-রাজ্য৷ এই পর্যায়েও বন্ধ থাকবে স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, কলেজ-সহ যেকোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। খোলা হবে না সিনেমা হল, সুইমিং পুল, বিনোদন পার্ক, পানশালা, অডিটোরিয়াম। এমনকি কোনওরকম রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, বিনোদনমূলক, শিক্ষামূলক জমায়েত একেবারেই করা যাবে না। রাজ্যে মারণ ভাইরাসের সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত ইতিমধ্যেই সপ্তাহে দু’দিন করে সম্পূর্ণ লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

সে অনুযায়ী আগস্ট মাসে ৫, ৮, ১৬, ১৭, ২৩, ২৪ এবং ৩১ আগস্ট রাজ্যজুড়ে সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দিনগুলিতে দোকান, বাজার, অফিস সবই বন্ধ থাকবে। তবে লকডাউন শিথিল হলেও নবান্নের তরফে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদি কোনও জায়গার করোনা সংক্রমণ বাড়ে তবে সেক্ষেত্রে জেলাশাসক নিজের ইচ্ছায় সেই জায়গায় লকডাউন ঘোষণা করতে পারে৷ সব মিলিয়ে রাজ্যে যেভাবে বাড়ছে সংক্রমণ তাতে লকডাউন শিথিল হলেও সাধারণ মানুষকে মানতে হবে বিধিনিষেধ।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join