TRENDS

বাবা-মাকে ফিরিয়ে আনতে দিল্লি যাওয়া হল না নবকুমারের,মাধ্যমিকের ফল বেরুনোর আগেই সব শেষ

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: আর দুটো বছর। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেই দিল্লি চলে যাবে সে। সেখানে গিয়ে দাদার সাথে সেও কাজ করবে আর বাবা, মাকে ফিরিয়ে এনে রেখে যাবে গ্রামের বাড়িতে। এটাই স্বপ্ন ছিল নবকুমারের। বাবা মা দাদা সবাই দিল্লিতে থাকে। সেখানে কাজ করে কিন্তু বাবা মা দুজনেরই বয়স হয়েছে তাই তাঁদের অবসর দিয়ে সে সংসার চালাতে দাদার সঙ্গে কাজ করবে। দাদাই বলেছিল, উচ্চ মাধ্যমিকটা পাশ করলে সুবিধা হয়। মাধ্যমিক দিয়েছিল এবছরই, এতদিনে রেজাল্ট বেরিয়েও যেত কিন্তু লকডাউনে সেটা হয়ে ওঠেনি। সরকারের হিসাব অনুযায়ী আর দিন কয়েকের মধ্যেই রেজাল্ট বেরুনোর কথা কিন্তু সে রেজাল্ট দেখা হলনা ১৭ বছরের নবকুমারের, সর্বনাশা আমফান কেড়ে নিয়েছে তাকেও।

মূখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন রাজ্যে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে আমফানের তান্ডবে। এরমধ্যেই রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ২টি নাম, মোহনপুরের নবকুমার পাত্র আর পিংলার ২৭ বছরের যুবক রবীন পূর্তি।
পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর ব্লকের বাগদা গ্রামের গোবিন্দ পাত্রর ছেলে নবকুমার। মোহনপুর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল নবকুমার। অভাবের কারনে তার বাবা মা ও বড় ভাই দিল্লিতে। বাড়িতে সে ও ছোট বোন ৯ বছরের মালতি দাদু ও ঠাকুমা কাছে থেকে লালিত হত। তপশিলি পরিবার ভুক্ত নবকুমারের বাড়ির পানীয়জল শেষ হয়ে গিয়েছিল। তখন সবে ঝড়ের তান্ডব শুরু হয়েছে। ছুটে বাড়ির বাইরে একটা টিউবকল থেকে জল আনতে বেরিয়েছিল। কিন্তু আসা হলনা একটা খেজুর গাছ পড়ে যায় তার ওপর। বুকে এবং মাথায় জোরালো আঘাত লাগে। মোহনপুর বিডিও রাজীব দত্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, একটি আ্যম্বুলেন্স করে ওকে এগরা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওখানেই চিকিৎসা চলছিল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় রাতেই অবস্থা খারাপ হচ্ছিল নবকুমারের। ঠিক হয়েছিল কলকাতায় পাঠানো হবে কিন্তু হাওড়া কলকাতা জুড়ে তখন আমফানের তান্ডব চলছে। এগরাতেও ঝড় চলছে। ফলে পাঠানো যায়নি। বৃহস্পতিবার ভোরবেলা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ফের আ্যম্বুলেন্স তাকে নিয়ে রওনা হয় কলকাতার উদ্দেশ্যে কিন্তু পথেই ভোর ৫টা নাগাদ মৃত্যু হয় তার।

আমফানের কবলে জেলার প্রথম মৃত্যু ছিল রবীন পূর্তির। পিংলার দুজিপুর লাগোয়া রাউৎচকের বাসিন্দা রবীন। বাবা লক্ষীকান্ত। বুধবার দুপুরে বাড়ির ওপর ভেঙে পড়েছিল একটা গাছ। সেটা দেখার পরই হার্ট আ্যটাক হয় তার। শেষ পাওয়া খবর অবধি সারা জেলায় ৮হাজার ২২৯ বাড়ি সম্পূর্ণ অথবা আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ৬৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল নিরাপদ আশ্রয়ে। নষ্ট হয়েছে কয়েক হাজার বিঘার ফসল।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join