TRENDS

খড়গপুরে ফিরেই করোনা আক্রান্ত নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ, মানবিক প্রশাসন রাতেই সরিয়ে নিল হাসপাতালে

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: পুরো লকডাউনটাই কাটিয়েছিলেন আসানসোলে, খড়গপুরে নিজের বাড়িতে ফিরেছিলেন চার দিন আগে আর ফেরার পরই আক্রান্ত হয়ে গেলেন করোনায়। ঘটনায় হতভম্ব ওই বৃদ্ধ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট পজিটিভ জানতে পেরে কেঁদেই ফেললেন ওই বৃদ্ধ। পুলিশের কাছেই কাঁদতে কাঁদতে ওই বৃদ্ধ নাকি বলেই ফেললেন, কেন আমার বেলাতেই এরকম হয় বলুন তো?

পুলিশ জানিয়েছে, ৬৬ বছরের ওই বৃদ্ধের বাড়ি ইন্দা বামুনপাড়া এলাকায়। বৃদ্ধ বিয়ে থা করেননি, অন্য কোনো আত্মীয় স্বজন নেই, একাই থাকেন। বৃদ্ধের বোনের বিয়ে হয়েছে আসানসোলে। লকডাউনের আগে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানেই আটকে যান। বৃদ্ধ পুলিশকে জানিয়েছেন, লকডাউন উঠে যাওয়ার পর তিনি আসার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু বোন আসতে দিতে যায়নি। তিনি যেহেতু একা মানুষ তাই কী ভাবে লকডাউনের সময় একা একা থাকবেন এই দুশচিন্তায় বোন তাকে ছাড়েননি। কিন্ত আনলক থ্রির শুরুতেই চলে আসেন খড়গপুরে।
বৃদ্ধের বক্তব্য তাঁর কোনও উপসর্গ ছিলনা। খালি খাবারের স্বাদ পাচ্ছিলেননা আর খেতে তেমন ইচ্ছা করছিলনা। ৩১ তারিখ ফিরেছিলেন আসানসোল থেকে।

১তারিখ মুখের স্বাদ পুরোপুরি চলে যায়। ২তারিখ খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা তাকে নমুনা দিতে বলেন এরপর মঙ্গলবার তার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সাধারনভাবে পুলিশ পরের দিন আক্রান্তদের কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয় কিন্তু বৃদ্ধ একা থাকেন এবং পজিটিভ রিপোর্ট জানতে পেরে এতটাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে যে পুলিশ কোনও ঝুঁকি নেয়নি। মঙ্গলবার রাতেই বৃদ্ধকে কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার খড়গপুর শহরে মাত্র ২জন আক্রান্ত পাওয়া গেছে। এদিন রেল এলাকাতে কোনো পজিটিভ কেস পাওয়া যায়নি। ফলে সব মিলিয়ে খড়গপুর শহরে ১৫০ টি আক্রান্ত থেকে মাত্র ১জন আক্রান্ত বাকি রইল। ১৪৯ তম আক্রান্ত যুবকের বাড়ি রেলের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায়। ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। রাতেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

এদিকে ৪তারিখ থেকেই শহরে আরও ১১টি কন্টেনমেন্ট জোন বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে জোনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০টি। এদিকে কন্টেনমেন্ট জোন বাড়তে থাকায় চাপ বাড়ছে পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘ খড়গপুরের যেভাবে কন্টেনমেন্ট বাড়ছে তাতে শুধু কন্টেনমেন্ট জোন রক্ষার জন্যই সব পুলিশ কর্মী লেগে যাবে!’

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join