TRENDS

ভোট গননার দিনই পিংলায় রাজনৈতিক হিংসার বলি তৃনমূল কর্মী! গ্রেপ্তার একাধিক বিজেপি সমর্থক, তীব্র উত্তেজনা এলাকায়

Chandramani Saha

ভোট গননার দিনই পিংলায় রাজনৈতিক হিংসার বলি তৃনমূল কর্মী! গ্রেপ্তার একাধিক বিজেপি সমর্থক, তীব্র উত্তেজনা এলাকায়শশাঙ্ক প্রধান: রাজনৈতিক হিংসার বিরাম নেই ভোট গননার দিনেও। অভিযোগ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা থানা এলাকায় বিজেপি সমর্থকদের বেধড়ক মারে নিহত হয়েছেন এক তৃনমূল কর্মী। নিহত ওই তৃনমূল কর্মীর নামq শক্তিপদ বাটুল বলেই জানা গিয়েছে। তাঁর বাড়ি পিংলা থানার পশ্চিমচক গ্রামে। জানা গেছে রবিবার দুপুর বেলায় স্থানীয় জলচক বাজার থেকে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন শক্তিপদ ও তার এক সঙ্গি। সেই সময় পশ্চিমচক গ্রামের মুখেই দাঁড়িয়েছিলেন কিছু বিজেপি সমর্থক।

ওই বিজেপি সমর্থকরা শক্তিপদ ও তার সঙ্গীকে ঘিরে টোন -টিটকারি করে বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদ জানায় শক্তিপদরা। এরপরই শুরু হয়ে যায় বচসা এবং হাতাহাতি। অভিযোগ এই সময় বিজেপি কর্মীদের কয়েকজন বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারতে শুরু করে। শক্তিপদর অন্য সঙ্গি পালাতে পারলেও পালাতে পারেনি শক্তিপদ। মাটিতে পড়ে যায় সে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়েই ছুটে আসেন তৃনমূল সমর্থক কর্মীরা। তাঁদের দেখে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা এলাকা ছাড়ে।

সমর্থকরা তাড়াতাড়ি শক্তিপদকে একটি মারুতি ভ্যানে করে সামান্য দূরত্বের জলচক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন তাঁকে। তৃনমূল সমর্থকদের অভিযোগ, মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও রেহাই মেলেনি শক্তিপদর। ৩জন মিলে বাঁশ আর লাঠি দিয়ে পেটায় তাঁকে। শক্তিপদর মাথায়, কানের পাশে, পায়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় ছুটে যায় পিংলা থানার পুলিশ। বেশ কয়েকজন বিজেপি সমর্থককে আটক করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এদিন ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে বাংলার অন্য জায়গায় মতই দিনভর চূড়ান্ত উত্তেজনা রয়েছে পিংলা এলাকায়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তৃনমূল সভাপতি প্রার্থী অজিত মাইতি বনাম বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অন্তরা ভট্টাচার্যর মধ্যে। শুরু থেকে দুপুর বেলা অবধি অন্তরার কাছে রীতিমত কোণঠাসা হয়ে পড়েন তৃনমূল জেলা সভাপতি। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধারণা হয়ে যায় মাইতি হেরে যাচ্ছেন। ফলে দ্বিগুন উৎসাহে টগবগ করে ফুটতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে জটলা করে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। অন্যদিকে কিছুটা হলেও চুপসে যায় তৃনমূল কর্মীরা।

জলচক বাজার থেকে ঠিক ওই সময়ই বাড়ি ফিরছিলেন শক্তিপদ ও তাঁর সহযোগী বন্ধু। সম্ভবত জলচক বাজারেও তখন বিজেপি কর্মীদের আনন্দ উল্লাস চলছিল। ফলে ওই দুজন বাজার ছেড়ে বাড়ির পথে রওনা হন। তখনই গ্রামে ঢোকার মুখে স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের জটলার মুখে পড়েন আর ঘটনাটি ঘটে যায়।  যদিও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিংলার রাজনৈতিক অংক বদলে যেতে শুরু করেছে। অজিত মাইতি অন্তরা ভট্টাচার্যকে পেছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন । এই মুহূর্তে প্রায় জয়ের গোড়ায় মাইতি।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join