TRENDS

কেশিয়াড়ীতে বিদ্রোহ শিকেয় তুলে মুখ্যমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন কল্পনা-পবিত্র-সঞ্জয়রা

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: আগামী ১৮ই মার্চ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ীতে নির্বাচনী প্রচারে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সেই সভাকে সফল করতে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা গেল রাজ্য যুব তৃনমূলের সাধারণ সম্পাদক কল্পনা সিট এবং তাঁর দলবলকে। কেশিয়াড়ী ব্লক তৃনমূল সূত্রে জানা গেছে নন্দীগ্রামে তৃনমূল নেত্রী আহত হওয়ার দরুন তাঁর পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে কিছু রদবদল হয়েছে।

আগামী ১৬ ই মার্চ পশ্চিম মকেশিয়াড়ীতে নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল তৃণমূল তাঁর। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই দিন ২দিন পিছিয়ে ১৮ ই মার্চ হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি এই সভাতে মানুষজনকে সমবেত করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন একদা বিদ্রোহী নেত্রী। নিজের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে কোন এলাকা থেকে কতজন যুব আসবেন তার বিস্তৃত পরিকল্পনার পাশাপাশি সাধারণ সমর্থকদের জনসভায় হাজির করার জন্য লড়ে যাচ্ছেন যুব নেত্রী। সব মিলিয়ে পুরানো ফর্মেই কল্পনা এবং তাঁর অনুগামীরা।

উল্লেখ্য, বিধায়ক পরেশ মুর্মুকে প্রার্থী করার প্রতিবাদে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ী বিধানসভা এলাকায় বিদ্রোহে ফেটে পড়েছিলেন স্বয়ং রাজ্যের যুব নেত্রী কল্পনা সীট। যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন কেশিয়াড়ী তৃনমূলের ব্লক সহসভাপতি পবিত্র সীট, ব্লক যুব সভাপতি সঞ্জয় গোস্বামী এবং ৯টি গ্রামপঞ্চয়েত এলাকার অঞ্চল সভাপতিরা। তাঁরা প্রার্থীকে দুর্নীতি গ্রস্থ, তোলাবাজ ইত্যাদি আখ্যায়িত করে সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়ে দেন। কয়েকদিন প্রচার থেকে সরেও যান।

ঘটনার পরেই বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন ব্লক সভাপতি অশোক রাউৎ এবং জেলার নেতারা। তৃনমূলের রাজ্য কমিটি বিশেষ করে অভিষেক ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ নেতা এবং প্রশান্ত কিশোরের টিম
দীর্ঘ আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে অবশেষে কল্পনা, পবিত্র, সঞ্জয়দের মন গলাতে সক্ষম হন নেতৃত্ব। এরপরই কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন বিদ্রোহীরা।

রাজ্য যুব নেত্রী জানান, ” আমাদের কিছু মান অভিমান ছিল, আমরা দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের কথাও বলেছিলাম কিন্তু কোনও অবস্থাতেই মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করিনি। তাছাড়া এটা ঘটনা যে, একটি সাম্প্রদায়িক দল মাথা চাড়া দিতে চাইছে যারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যের সর্বনাশ হয়ে যাবে। যাঁদের জন্য দেশের মানুষের দুর্বিসহ অবস্থা। জনগনের স্বার্থের কথা ভেবেই নিজেদের মান অভিমান ভুলে আমরা ফের দলের হয়ে রাস্তায় নামলাম।”

ব্লকের সহসভাপতি পবিত্র সীট বলেন, যা হয়েছিল তা অতীত। এখন সিঙ্গেল পয়েন্ট কর্মসূচি, দিদির জনসভাকে সফল করা। ১০ই মার্চ থেকে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়েছি ময়দানে। আগামী ১৮ই মার্চ রেকর্ড জনসমাগম দেখবে কেশিয়াড়ী।” ব্লক সভাপতি অশোক রাউৎ বলেন, ‘ সেই নচিকেতার গান, একদিন ঝড় থেমে যাবে। সব কিছু ভুলে এখন শুধু জেতার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ কেশিয়াড়ীর তৃনমূল কংগ্রেস। যার ফসল আমরা তুলব আগামী ২রা মে।”

এদিকে শনিবার মমতার ব্যানার্জীর সভার আগে হেলিকপ্টার নিয়ে হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড পরিদর্শন করে গেলেন মুখ্যমন্ত্রীর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স। উপস্থিত ছিলেন কেশিয়াড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক বিশ্বজিৎ হালদার, তৃণমূলের প্রার্থী পরেশ মূর্মু ব্লক সভাপতি অশোক রাউত সহ অন্যান্যরা।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join