TRENDS

আব্বাস সিদ্দিকি আর বাম ব্রিগেডের ধাক্কায় পিছিয়ে গেল তৃনমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা! জল্পনা জোরদার

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী : সবাইকে চমকে দিতে গিয়ে চমকে গেল খোদ তৃনমূল কংগ্রেসই। নির্বাচনী নির্ঘন্ট প্রকাশের ৭২ঘন্টার মধ্যেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার লক্ষ্য ছিল তৃনমূলের। আর সেই মত সোমবার, সপ্তাহের প্রথম দিনই ২৯৪ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছিল। সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূলের নির্বাচন কমিটির বৈঠক হয়। তৃণমূলের তরফ থেকে আগেই ১২ জনের নির্বাচনী কমিটি গঠন করা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই কমিটিতে রয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্তি, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং সৌগত রায়ের মতো নেতারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এদিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন। কিন্তু মিনিট কুড়ি সেই বৈঠকে থেকে মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে চলে যান। খবর মেলে ঘোষণা হচ্ছেনা প্রার্থী তালিকা। কেন হলনা তার ব্যাখ্যা অবশ্য অফিসিয়ালি তৃনমূল দেয়নি। কারন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা যে হবেই এমনটাও অফিসিয়ালি তৃনমূলের তরফে ঘোষণা করা হয়নি। যদিও আন অফিসিয়ালি বিষয়টি সর্বস্তরেই জানানো হয়েছিল। সেই মত জেলায় জেলায়, বিধানসভা ধরে ধরে কার্যত রঙ আর তুলি নিয়ে তৈরিও ছিলেন কর্মী সমর্থকরা।

 সূত্রের খবর অনুযায়ী, সবকটি কেন্দ্রের জন্যই প্রার্থী তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে। পিকের সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে এই তালিকায় সিলমোহর দিয়েছিলেন নিজেই। কিন্তু অনিবার্য কারনে পিছিয়ে গেল তা। যতদূর জানা গেছে আরও ৪৮ ঘন্টা সময় নেওয়া হচ্ছে পুরো তালিকা পুনর্বিবেচনার জন্য। নতুন করে সংযোজন বিয়োজন হতে পারে তালিকা। কেন এই ঘোষণা পিছিয়ে গেল তার কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা উঠে এসেছে রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে যার অন্যতম হল বামেদের ব্রিগেড এবং আব্বাস সিদ্দিকীর চাপ। দুই ২৪পরগনা, হাওড়া, হুগলিতে সর্বশক্তি নিয়ে ময়দানে নামার জন্য নিজের সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছেন আব্বাস। বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও মালদার একাংশেও তাঁর অনুগামীর সংখ্যা যথেষ্ট। আব্বাসের ঘোষণা শুধু নিজেদের ৩০টি আসন নয়, যেখানে যেখানে বামপন্থীরা প্রার্থী দিয়েছেন সেখানে সেখানেই নিজের প্রার্থী মনে করে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সমর্থকদের, প্ৰয়োজনে রক্ত দিয়েও এই লড়াই লড়তে হবে। আব্বাসের এই ঘোষণাই চিন্তায় ফেলেছে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরকে।

এরপরই দুই ২৪পরগনা এবং হাওড়া, হুগলি নিয়ে নতুন করে ভাবার দরকার রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। তালিকায় থাকা বর্তমান প্রার্থীদের স্বচ্ছতা, যোগ্যতা এবং কর্মীদের জনপ্রিয়তা আরও একবার মাপার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছে নির্বাচনী কমিটি। সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বল্প সময় আলোচনায় থাকলেও, বিষয়টি তাঁকে অবহিত করানো হয়েছে। এদিনের বৈঠকে নির্বাচনী প্রচার কৌশল নিয়েও আলোচনা প্রসঙ্গে উঠে এসেছে বামেদের ব্রিগেড আর আব্বাস সিদ্দিকীর প্রসঙ্গ যিনি তৃণমূলকে নির্মূল করার ডাক দিয়ে ব্রিগেডে লাখো মানুষের হাত তালি কুড়িয়ে নিয়েছেন।

উল্লেখ্য মাসের পর মাস ধরে ধৈর্যের সাথে পিকে বা প্রশান্ত কিশোর এবং তার টিম আইপ্যাক স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীর খোঁজ চালিয়েছেন রাজ্য জুড়ে। কেন্দ্রে পর কেন্দ্র ধরে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছেন শাসকদলের একাধিক নেতা সম্পর্কে। তারই ভিত্তিতে একটি তালিকা তৈরি করেছেন তিনি যা নির্বাচনী কমিটি এবং দলনেত্রীর সাথে আলোচনা মারফৎ চূড়ান্ত হয়েছিল কিন্তু ২৮শে বামেদের ব্রিগেড আবার নতুন করে ভাবাচ্ছে তাঁকে বিশেষ করে দুই ২৪পরগনা, হাওড়া,হুগলিতে। যতদূর সম্ভব এই জেলা গুলিতে সংখ্যালঘু প্রার্থী আরও বাড়ানো হতে পারে।

একটি সূত্র মারফৎ জানা গেছিল এবারের প্রার্থী তালিকায় ৫০ জনের মত নতুন মুখ আনতে চেয়েছেন পিকে। প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যুব নেতাদের। গুরুত্ব পেয়েছেন মহিলারাও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানা গিয়েছে। রদবদল করা হয়েছিল একাধিক হেভিওয়েট নেতার আসন। হয় বাদ পড়েছেন তাঁরা নতুবা নতুন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁদের। কিন্তু ফের পর্যালোচনার মুখে সেই তালিকা। আরও ২দিন সময় হাতে নিয়ে বুধবার প্রকাশিত হতে পারে সেই তালিকা কিন্তু প্রথম ধাক্কায় পিছিয়ে যাওয়াটা অনেক কিছুরই ইঙ্গিত দিয়ে রাখল। আর একটা জিনিস প্রমান হয়ে গেল একটা ব্রিগেডেই প্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে বামেরা। ময়দানের জোরালো শক্তি নিয়েই আসছে সংযুক্ত মোর্চা।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join