TRENDS

দরজায় বেল বাজলেই ছুটে যাচ্ছে সুশান্তের পোষ্য, মোবাইলে প্রভুর ছবিতেই মুখ গুঁজে ‘ফাজ’

Chandramani Saha

ওয়েব ডেস্ক: দরজায় বেল বাজলেই ছুটে যাচ্ছে ফাজ, ভাবছে এই বোধহয় মনিব এল। তারপর ফিরে এসে আবার বিষন্ন হয়ে বসে থাকছে, খাওয়া দাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছে। মনবীর গুরজারের ট্যুইটার কিংবা টিকটক ছড়িয়ে পড়া ফাজের এই অসহায়ত্বের কয়েক গুচ্ছ ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় আর তা দেখে অনেকেই ধরে রাখতে পারছেননা চোখের জল।

গত রবিবার মুম্বাইয়ের বান্দ্রার ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা কতেছেন অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী সুশান্তের মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ বলে মনে করা হলেও ইতিমধ্যেই তার মৃত্যু নিয়ে উঠছে নানা জল্পনা। অনুমান করা হচ্ছে, বিটাউনের অন্দরে স্বজনপোষণ নীতির কারণেই ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে যাওয়া সুশান্ত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এই টানা পোড়েনের জেরে সুশান্তকে দেখতে না পেয়ে মন খারাপ সুশান্তের প্রিয় ‘ফাজ’-এর। প্রতিদিন শ্যুটিং শেষে বাড়ি ফিরলেই সুশান্তের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আদর খেত ‘ফাজ’। কয়েক মাসের লকডাউনে তাঁর একাকীত্বের সঙ্গী হয়েছিলেন ‘ফাজ’। কিন্তু তাকে ফেলেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন সুশান্ত।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় সুশান্তের প্রিয় পোষ্য ‘ফাজ’-এর বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছেন। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ঘরের মধ্যে ছোটাছুটি করছে ‘ফাজ’। বারংবার দরজার কাছে দৌড়ে যাচ্ছে আবার মাথা নীচু করে ফিরে আসছে। অন্য একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, মেঝেতে শুয়ে রয়েছে ‘ফাজ’ আর তার পাশে মোবাইলে সুশান্তের ছবি৷ মোবাইলটি পা দিয়ে ধরে একমনে তাকিয়ে রয়েছে সুশান্তের ছবির দিকে। এই ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে সুশান্তের মৃত্যুতে একইভাবে মনখারাপ ফাজ এরও।

অন্য আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনও একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য তৈরি সুশান্ত। কিন্তু যাওয়ার আগে সুশান্তের হাত ধরে রয়েছে তাঁর প্রিয় পোষ্য ‘ফাজ’। জানা গিয়েছে সুশান্তের মৃত্যুর পর থেকে কিছুই খাচ্ছে না ‘ফাজ’, এমনকি আগের মতো ছোটাছুটিও করছে না। শুধুমাত্র তার করুণ দুটি চোখ নিয়ে তাকিয়ে থাকে দরজার দিকে, সুশান্তের অপেক্ষায়। যেখানে বেঁচে থাকতে সুশান্তকে ক্রমশ কোণঠাসা করে দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল কিছু মানুষ, সেখানে একটি পোষ্যের তার মালিকের প্রতি এহেন ভালোবাসা চোখে জল আনছে নেটিজেনদের। ট্যুইটার হ্যান্ডেলে প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন কেউ কেউ। একজন লিখেছেন, “ইন্ডাস্ট্রির মার প্যাঁচ বোঝেনা অবলা জীবের দল যদি বুঝত তাহলে সে তার প্রিয় মনিবকে নিয়ে অনেক আগেই দেশে ফিরে যেত আর বলত, অনেক হয়েছে, এবার চল দুজনের জন্য দুজনে বাঁচি। মরতে হতনা সুশান্তকে, কারন মানুষ এখন এসব বলতে ভুলেই গেছে।”

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join