TRENDS

ভারতীয় দিন মজুরদের জন্য ৫কোটি টাকা দান করলেন আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী তথা গুগুল প্রধান সুন্দর পিচাই

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউনে সর্বাধিক খারাপ অবস্থা দিন আনি দীন খাই মানু্ষের। লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন। আচমকা বিপর্যয়ে দিশেহারা অসহায় পরিবার গুলি। দারিদ্র এতটাই নিষ্ঠুর যে শনিবারই উত্তরপ্রদেশের এক মা খিদের জ্বালা সহ্য করতে না পারা ৫শিশুকে ভাসিয়ে দিয়েছেন গঙ্গায়। ক্ষুদা বাড়িয়ে দিচ্ছে মানসিক ভারসাম্য দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন এমন ভারতীয় শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে ৫ কোটি টাকা দান করলেন গুগল প্রধান সুন্দর পিচাই। ‘গিভ ইন্ডিয়া’ নামে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এই অর্থ দিলেন তিনি।

‘গিভ ইন্ডিয়া’-র পক্ষ থেকে এই অর্থ অনুদানের জন্য পিচাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি টুইট করা হয়েছে। তা থেকেই জানা গিয়েছে গুগল প্রধান ভারতীয় শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে ৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। শুধু ভারতের জন্যই নয়, অন্যান্য দেশের পাশে দাঁড়াতেও আগেই এগিয়ে এসেছ জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন সংস্থা গুগল। বিশ্বজুড়ে মহামারী মোকাবিলায় আগেই গুগল ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্যের ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দেশে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে। কিন্তু এই দান একান্ত ভাবেই সুন্দরের একান্তই নিজের। গুগুলের চিফ একজিকিউটিভ অফিসার হিসাবে বছরে তিনি যে সাড়ে ছ লক্ষ মার্কিন ডলার বেতন হিসাবে পেয়ে থাকেন তাঁরা থেকেই এই অর্থ দান করেছেন তিনি।

তমিলনাডুর মাদুরাইতে জন্ম নেওয়া পিচাই বেড়ে উঠেছিলেন চেন্নাইয়ের অশোক নগরের একটি দু’ কামরার ফ্ল্যাটে। পাশেই একটি সাধারন স্কুল বনবানী থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর খড়গপুর আইআইটি থেকে মেটালার্জি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক পিচাই পরিবার থেকেই পেয়েছিলেন সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবন। পরের পড়াশুনা বিদেশে। এরপর ২০০৪সালে গুগুলের ম্যানেজম্যান্ট একজিকিউটিভ। তারপর সাফল্যের সিঁড়ি ভেঙে গুগুলের শীর্ষকর্তা ২০১৫থেকেই। যদিও দেশ আর দেশের দরিদ্র জনতাকে ভুলে যাননি তিনি। তাই দেশের মেহেনতি জনতার এই দুর্দশার দিনে বাড়িয়ে দিলেন সহযোগিতার হাত।

গুগুল কর্তা এই দান একান্ত ভাবেই এমন একটি সংস্থাকে করেছেন যাঁরা দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করা ভারতের শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য গত কয়েক দশক ধরে নিবিড় ভাবে কাজ করে আসছে। শুধুমাত্র শ্রমিক পরিবারগুলির জন্যই এই দান করার জন্যই পিচাই সরকারি তহবিলে দান না করে ওই সংস্থাকে বেছে নিয়েছেন বলেই জানা গেছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join