TRENDS

ভাঙনের মাসে শুভেন্দুর সাথে মন্ত্রী সভার বৈঠক এড়িয়ে গেলেন রাজীবও

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: মঙ্গলবার ‘নন্দীগ্রাম দিবস’ নিয়ে দিনভর কূট কচালি আর আক্রমন ও প্রতি আক্রমনের পালার পর বুধবার মন্ত্রী সভার বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী থাকবেন এমনটা ভাবাই অবাস্তব। মঙ্গলবার শুধু নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর উদ্দেশ্যে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের মীরজাফর বিশেষনই নয় এদিন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কল্যান বন্দোপাধ্যায়, সৌগত রায়রাও কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারীকে। তিক্ততার এই চরম পর্যায়ে মন্ত্রী সভার বৈঠকে শুভেন্দু যাবেননা এটাই বরং বাস্তব কিন্তু গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার মত এদিন গর হাজির থাকলেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়ও। ইদানিং দলের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছে রাজীবেরও। তাই তাঁর অনুপস্থিতি রীতিমত জল্পনা তৈরি করেছে রাজনৈতিক মহলে।

বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক মোট চারজন মন্ত্রী গরহাজির ছিলেন। তার মধ্যে দু’জন তাঁদের অনুপস্থিত থাকার কারণ আগে ভাগেই জানিয়েছিলেন। গৌতম দেব কোভিড আক্রান্ত। তাঁর আসার প্রশ্নই ছিলনা। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ আগে থেকেই জানিয়েছেন যে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মন্ত্রী সভার বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাই শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এই দু’জনেই অনুপস্থিতির কারণ জানাননি বলে খবর।

রাজীব দলের প্রতি খুব একটা দায়বদ্ধ নয় আজকাল। আগে সেচের মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক তাঁর হাতে থাকলেও পরে সেই দায়িত্ব কেড়ে নিয়ে বনদপ্তরের মত কম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়া হয় তাঁকে। এছাড়া অপর এক মন্ত্রী অরূপ রায়ের সঙ্গে তাঁর বনিবনা হচ্ছিলনা। সমস্যা মেটাতে
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায় ও লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে নিয়ে দিন কয়েক আগে বৈঠকে বসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোর। সূত্রের খবর, ভোটের আগে তিন নেতার মন কষাকষি কাটাতেই ওই বৈঠক ছিল। তারপর মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজীবের গরহাজিরা নিয়ে আরও তীব্রতর হচ্ছে জল্পনা।

এমনিতেই পুজোর পর দলে বিভাজন খুব স্পষ্ট হয়ে যাবে এটা রাজনৈতিক মহলে খুব চর্চা হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল নভেম্বরে ভাঙনের শুরু হয়ে যাবে। উত্তরের বিধায়ক মিহির গোস্বামী, সিঙ্গুরের বিধায়ক ফোঁস করেছেন সম্প্রতি। দলের বহু জায়গাতেই মুখ খুলেছেন দলেরই একটা অংশ। এরই মধ্যে বিদ্রোহী রাজীবের মন্ত্রী সভার বৈঠকে যোগ না দেওয়ায় ভাঙনের জল্পনা আরও বাড়ছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে শনি কী তবে গেড়েই বসল?

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join