TRENDS

সুবর্নরেখার কথা-২৭।। উপেন পাত্র

Chandramani Saha

সুবর্ণরেখা নদীর গতিপথে ভাষাবিভ্রাট                                                                       উপেন পাত্র

সুবর্ণরেখা একটি আন্তঃরাজ্য নদী।ঝাড়খণ্ড রাজ্যে উদ্ভব হয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে নদীটি ওড়িশা রাজ্যে বঙোপসাগরে পতিত হয়েছে। রাঁচীর নিকটবর্তী উৎস থেকে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের হাতিবাড়ী পর্যন্ত নদীর উচ্চগতি।হাতিবাড়ী থেকে ওড়িশা সীমান্তের দাঁতন পর্যন্ত নদীর মধ্যগতি।দাঁতন থেকে নদীর মোহানা পর্যন্ত নিম্নগতি।

সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় নদী অববাহিকার নানা অংশে নানা ভাষা দেখা যায়।রাঁচী থেকে ঘাটশিলা পর্যন্ত সাদরি ভাষার প্রাধান্য দেখা যায়।সাদরি ভাষাকে মদেশিয়া ও নাগপুরিয়াও বলা হয়।মাগধী প্রাকৃত ভাষা থেকে এই ভাষার উদ্ভব হয়েছে।

এই এলাকার চা শ্রমিকরা আসাম ও উত্তর বাংলায় অভিবাসিত হওয়ায় উত্তর বাংলায়ও সাদরি ভাষা কথিত হয়।সমতট থেকে প্রকাশিত ডঃ সমীর চক্রবর্তীর লেখা “বাংলা ও সাদরিঃযমজ ভগিনী” পুস্তকে এই ভাষার বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যায়।ঘাটশিলা থেকে দাঁতন পর্যন্ত সুবর্ণরৈখিক লোকভাষা কথিত হয়।

ঝাড়খণ্ড রাজ্যে সাদরি ও সুবর্ণরৈখিক দুই লোকভাষা ছাড়াও মান্য বাংলারও বহুল প্রচলন আছে,যে কারণে বাংলা মাধ্যমে বহু স্কুলও আছে।কিন্তু বর্তমানে হিন্দী আগ্রাসনের ফলে এই ভাষাগুলি বিপন্ন।বিহার রাজ্যেও মগহী ও মৈথিলী ইত্যাদি ভাষাগুলি হিন্দী আগ্রাসনের ফলে বিপন্ন হয়ে উঠেছে।

সুবর্ণরৈখিক লোকভাষার মধ্যে দু’টি বিভাষা আছে, যথা– উত্তরাংশে শ্রীপাটীয় এবং দক্ষিণাংশে দণ্ডভুক্তীয়।উভয় বিভাষার মধ্যে খুব বেশী পার্থক্য নেই।এই ভাষাভাষী কিছু লোক অভিবাসী হয়ে কটক শহরে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করেন তাকে “কেরা বাংলা” বলা হয়।ওদিকে ওড়িশার বালেশ্বর জেলার লোকেরা ওড়িয়াভাষী হলেও বেশ কিছু বাংলা শব্দ ব্যবহার করেন।বিপরীতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সমুদ্র তীরবর্তী অংশের বাংলাভাষীদের মধ্যে ওড়িয়া ভাষার টান লক্ষ্য করা যায়।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join