TRENDS

গোয়ালতোড়ে হাতি হাতি তাড়াতে গিয়ে হুলার আগুনে পুড়ল ছাত্র! উদাসীন বনদপ্তর, বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: বছরের সমস্ত উপার্জন ধ্বংস করে দিচ্ছে হাতির পাল। সেই পালকে তাড়াতে গিয়ে হুলার আগুনে পুড়ে গেল এক একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গোয়ালতোড় থানা এলাকার ওই ঘটনায় গুরুতর আহত ওই ছাত্রকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওই এলাকায়। শনিবার ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে স্থানীয় বন আধিকারিকের দপ্তর ঘেরাও করে।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন গত চার পাঁচদিন ধরেই গোয়ালতোড় বনাঞ্চলের শাখাভাঙ্গা, ধরমপুর, কদমডিহা দেবগ্রাম প্রভৃতি গ্রামে প্রায় ৪০-৫০ টি হাতির পাল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অথচ বনদপ্তরের পক্ষ থেকে হাতি তাড়ানোর কোনো ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে আলু সহ মাঠের শীতকালীন বিভিন্ন সব্জির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি হাতির দল গ্রামে প্রবেশ করে বাড়ির ভাঙ্গচুর করছে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য বারংবার বনদপ্তরকে জানানোর পরও নিষ্ক্রিয় তাঁরা।

এই পরিস্থিতিতে বছর ভরের উপার্জন বাঁচাতে গ্রামবাসীরা নিজেরাই হাতি তাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল আর সেই হাতি তাড়াতে গিয়েই শুক্রবার রাতে হুলার আগুনে পুড়ে যায় ওই পড়ুয়া। আহত ওই ছাত্রের নাম তুহিন মাহাত। বছর সতেরোর ওই ছাত্রের বাড়ি ধরমপুরে। বনদপ্তরের উদাসীনতার কারনে বাধ্য হয়ে ধরমপুর, শাখাভাঙ্গা, দেবগ্রামের বাসিন্দারা শুক্রবার রাতে এক হয়ে হাতি তাড়ানোর কাজ শুরু করে। এই দলের মধ্যে তুহিনও ছিল।

মশাল (স্থানীয় ভাষায় এটিই হুলা ) জ্বালিয়ে আর মুখে আওয়াজ করে হাতির দলটিকে তাড়ানোর কাজ শুরু করতেই হাতির দল পালাতে থাকে। পেছনে পেছনে ছুটতে থাকে হুলা পার্টিও। এই সময় হঠাৎই একটা দাঁতাল ঘুরে দাঁড়ায় এবং তুহিনের দিকে ছুটে আসে। তুহিন কিছুটা আলাদা থাকায় দাঁতালটি প্রায় তাকে কব্জা করে নিয়েছিল কিন্তু সেই সময় এক ব্যক্তি বুদ্ধি করে একটি মশাল ছুঁড়ে মারে তুহিনের দিকে ছুটে আসা হাতিকে লক্ষ্য করে। হাতি থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেও মশালটি গিয়ে পড়ে তুহিনের গায়ে। হাতির দিকে নজর থাকায় তুহিন ছুটে আসা মশালটি দেখতে পায়নি। গায়ে শীতের কাপড় থাকায় দাউ দাউ করে তুহিনের শরীর জ্বলে ওঠে। তাই দেখে হাতিটি পালায়।

এরপরই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে তাকে উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে চিকিৎসার জন্য। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার। গ্রামবাসীদের অভিযোগ এই পুরো বিষয়টি রেঞ্জ অফিসে জানানো হলেও কোনো রকম ব্যাবস্তা নেয়নি তারা। তাদের সেই উদাসীনতার কারনে এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা রেঞ্জ অফিস ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের দাবী হাতি তাড়ানোর পাশাপাশি, ফসলের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও আহত তুহিনের চিকিৎসার সমস্ত ব্যাবস্থা করতে হবে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join