TRENDS

বহিষ্কারের খবর শুনেই সবাইকে রসগোল্লা খাইয়ে কানিষ্ক বললেন, পাপ মুক্ত হলাম

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা:  একেবারে প্রমান সাইজের

রসগোল্লা! পাশের কর্মীর মুখে ঠেসে দিতে দিতে বললেন, ‘আহ, শান্তি!’ কে বলবে দলটার সঙ্গে তিনি ১দশকেরও বেশি জড়িত ছিলেন! শুধু জড়িত নন রীতিমত জেলার উঁচু দরের নেতাও বটে। সেই নেতা দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন খবর পেয়ে এলাকার কর্মী সমর্থকদের পর রীতিমতো এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করলেন এবং বললেন, পাপমুক্ত হলাম। শুভেন্দু অনুগামী পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সম্পাদক কনিষ্ক পণ্ডার সেই মিষ্টি যাঁরা হাতে ধরে খেলেন তাঁরাও প্রমান করে দিলেন যে কাঁথিতো বটেই সারা জেলাতেই বেশ বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখেই তৃনমূল কংগ্রেস।

রবিবার মাত্র ঘন্টা খানেক আগেই দলনেত্রী মূখ্যমন্ত্রীর মমতা ব্যানার্জীর উদ্দেশ্যে কড়া মন্তব্য করা ও দল বিরোধী মন্তব্য করার অপরাধে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরই কাঁথিতে সদ্য খোলা শুভেন্দু অধিকারী সহায়তা কেন্দ্রে হাজির কর্মী সমর্থকদের মিষ্টি বিতরন করতে কনিষ্ককে বলেন, ‘‌আমার এখন শান্তি লাগছে। আমার লজ্জা ছিল। সেই লজ্জা থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমি বলেইছিলাম যে তাড়িয়ে দিলে চলে যাব।’‌ শাসকদল তৃণমূলকে কটাক্ষ করে কনিষ্ক বলেন, ‘‌তৃণমূলের তো এখন যাওয়ার সময়।’‌

এরপরই তিনি একযোগে আক্রমন শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের উদ্দেশ্যে বলেন, ‌‘‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিন্তা করুক যে পিকে বড় নেতা নাকি শুভেন্দু অধিকারী বড় নেতা। মমতা যে অ্যাকশনগুলি নিচ্ছেন, এবার সেই অ্যাকশনগুলির রিঅ্যাকশন দেখা যাবে। এত সবে ট্রেলার। সিনেমা দেখা যাবে ২০২১–এর ময়দানে।’‌

কনিষ্ক পণ্ডার বহিষ্কারকে স্বাগত জানিয়েছেন, তৃনমূলের জেলা সহ সভাপতি তথা রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি। গিরি বলেন, ‘‌ অনেক আগেই বহিষ্কার কানিষ্ককে বের করে দেওয়া উচিত ছিল। দিনের পর দিন দল ও নেত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিজনক কথা বলেছে। এর ফলে দল শক্তিশালী হবে।’

উল্লেখ্য শনিবারই কানিষ্ক সরাসরি মমতা ব্যানার্জীকে বেনজির আক্রমন করে বলেছিলেন “দিদিকে মূখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে উৎখাত করে শুভেন্দু অধিকারীকে সেই চেয়ারে না বসানো অবধি আন্দোলন চলবে।’ বাস্তবিকই এরপরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার ছাড়া দলের অন্য কোনও পথ খোলা ছিলনা। তারপরই কানিষ্ক যেভাবে মিষ্টি বিতরন করেছেন তাতে বোঝা গেছে তিনি এই পরিনতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join