TRENDS

কাজের ফাঁদ পেতে খোলা বাজারে নিলামে তোলা হত যুবতীদের! অতঃপর

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: কাজ খুঁজতে এসে যুবকের লোভ ও লালসার শিকার তিন যুবতী। তবে যোগীর রাজ্যের পুলিশের তৎপরতায় গ্রেফতার অভিযুক্ত যুবক। জানা যায়, কাজের সন্ধানে বেরোনো যুবতীদের নিশানা করত ওই যুবক। নানান রকমের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের জালে আটকে নিলাম করে দেওয়া হত খোলা বাজারে। হ্যাঁ, এমনই শিহরন জাগানো ঘটনা ঘটানো যুবকের নাম মুন্না লাল।

জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের অর্কেস্ট্রায় কাজ দেওয়ার নামে বিভিন্ন রাজ্য থেকে মেয়েদের নিয়ে আসত আগ্রার বাসিন্দা এই মুন্না। পরে চাপ দিয়ে তাদের অচেনা যুবকদের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হত। আর তারও পরে তাদের দেহব্যবসায় নামাতে প্রকাশ্যে নিলামে তোলা হত। দাম রাখা হত ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

এবারেও একই ছক কষেছিল সে। বেছে বেছে নিশানা করেছিল চাকরির সন্ধান করা যুবতীদের। উত্তরপ্রদেশের শোনভদ্র, মধ্যপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ড থেকে তিনজন মেয়েকে চাকরি দেওয়ার নামে আগ্রায় নিয়ে আসা হয়। একইভাবে তাদেরও বিয়ে দিয়ে দেওয়া হত। তারপরই শুরু হত আসল গল্প। প্রকাশ্যে নিলাম করে দেহব্যবসায় নামিয়ে দেওয়া হত তাদের।

 

তবে কথায় বলে, চোরের দশ দিন তো গৃহস্থ্যের একদিন; এবার ভাগ্যচক্রে দিল্লীর এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মিশন মুক্তি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই খবর পৌঁছে যায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কাছে। তারপরই তৎপরতার সাথে পাচার হওয়া তিনজনকে উদ্ধার করে তারা। পাচার চক্রের মাথা মুন্না লালকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গে কারা কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত তাও খুঁজে দেখছে যোগীর পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে আগ্রা পুলিশ সুপার কে ভেঙ্কট অশোক জানান, “টার্গেটদের খুঁজে বের করার পর সমস্ত কাজটা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিত চক্রের সদস্যরা। মুন্না বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কাজের টোপ দিয়ে মেয়েদের আগ্রা নিয়ে আসত। তারপর দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাদের বিয়ে দিয়ে দিত। এর পর নিলামের মাধ্যমে তৃতীয় পার্টির হাতে তাদের তুলে দিত মুন্না। তাদের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কতজন মহিলা তাদের এই টোপের ফাঁদে পড়েছ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।“

 

 

পেটের দায়ে কাজের খোঁজে বেরিয়েছিলেন ওঁরা। আর সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়েছিল মুন্না। তবে শুধু কাজের টোপ নয়, আরও নানান রকমের ফাঁদ পাতা রয়েছে চারিদিকে। আর সেই সকল ফাঁদে পরা থেকে বাঁচতে একমাত্র হাতিয়ার আমাদের সচেতনতা। তাই যে কোনও কিছু করার আগে অবশ্যই ক্রস চেক করে নিতে ভুলবেন না যেন।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join