TRENDS

সবংয়ে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে খুন যুবককে, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হাত,পা! মাথা থেঁতলে দেওয়ার চেষ্টা

Chandramani Saha

শশাঙ্ক প্রধান: মঙ্গলবার রাতে খবর পেয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানা এলাকার বলপাই গ্রামের দক্ষিন প্রান্তে বয়লাপুকুর শ্মশান থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে পিটিয়েই খুন করা হয়েছে যুবককে। যুবকের দু’পায়ের হাঁটুর ওপর মালাইচাকি, ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং মাথায় গুরুতর ভাবে আঘাত করা হয়েছে যার ফলে মাথা থেকেও গড়িয়ে পড়েছে রক্ত। ঘটনার খবর পেয়েই মঙ্গলবার রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন সবং থানার ওসি সুব্রত বিশ্বাস এবং অন্যান্য আধিকারিকরা। মৃতদেহ উদ্ধার করার পর জায়গাটি গিয়ে ঘিরে রেখে আসা হয়েছে পুনর্বার তদন্তের প্রয়োজনে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মৃত যুবকের নাম খোকন জানা। বয়স প্রায় ২২ বছর। যে জায়গায় খোকনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে সেখান থেকে আড়াই তিন কিলোমিটার দুরত্বেই খোকনের গ্রাম বলপাই গ্রাম পঞ্চায়েতেরই গোঁড়া গ্রামে। যুবক বিবাহিত বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে বয়লাপুকুর শ্মশানের শ্মশানযাত্রীদের জন্য নির্মিত খোলা বিশ্রাম ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় যুবকের মৃতদেহটি উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দুরে একটি মোটা ভারি গাছের ডাল পাওয়া গেছে যার এক অংশে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে যা থেকে বোঝা যাচ্ছে উপর্যুপরি পেটানো হয়েছে যুবককে এবং রক্ত বেরিয়ে যাওয়ার পরও সেই মার থেমে থাকেনি।

কী উদ্দেশ্য, কেন ওই যুবককে মারা হল, কোথা থেকে ধরে আনা হল যুবককে তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। একটি সূত্রে জানা গেছে যুবকের চুরির অভ্যাস ছিল এবং এর আগে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে সে। একবার সাইকেল চুরি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছিল যুবক। পাশাপাশি মদ্যপ হিসাবেও এলাকায় কুখ্যাতি ছিল যুবকের। কিন্তু তারপরেও যে বিষয়টা উঠে আসে তা হল ভয়ানক ভাবে যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনা।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এলোপাথাড়ি নয় রীতিমত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে মারা হয়েছে যুবককে। বেঁচে থাকলেও সে যাতে ভাল ভাবে হাঁটতে না পারে কোনও দিন সেই জন্য দুটো হাঁটুই গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, ভেঙে দেওয়া হয়েছে হাতও। পরে হয়ত ওই ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের মনে হয়েছে যুবককে বাঁচিয়ে রাখা যাবেনা তাই মাথাতেও আঘাত করা হয়েছে।” ঘটনাস্থলে একটি ঘাতক অস্ত্র পাওয়া গেলেও একক ব্যক্তি ওই খুন করেছে নাকি একাধিক ব্যক্তি তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতেই অকুস্থল তন্নতন্ন করে বিভিন্ন নিদর্শন সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন ও.সি। অপেক্ষা করা হচ্ছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য। যুবক কি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল নাকি তাকে ডেকে আনা হয়েছিল মারার উদ্দেশ্য সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘যুবক অপরাধী হতেই পারে কিন্তু তার জন্য আইন রয়েছে। এই নৃশংসতা, পিটিয়ে মারা সমর্থন করা যায়না। দোষীদের খোঁজ চলছে।”

বলপাইগ্রামের স্থানীয় তৃণমূল নেতা নিবারন সামন্ত জানিয়েছেন, আমরা তো রীতিমত আতঙ্কে রয়েছি।একজন মানুষকে যে ভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে তা ভয়ংকর। কোনও মানুষ অপরাধ করলে তার বিচার হোক আইন মোতাবেক কিন্তু তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হবে এটা মেনে নেওয়া যায়না। দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা আপামর গ্রামবাসীরা এটাই দাবি করছি।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join