শশাঙ্ক প্রধান: প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি চালিয়ে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ৭০হাজার টাকা লুট করে নিয়ে পালালো দুই দুষ্কৃতী। ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবংয়ে বালিচক থেকে পটাশপুর রাজ্য সড়কের ওপর দিনের বেলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই স্মরনাতীত কালে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে স্মরণ করতে পারছেননা।
পুলিশ জানিয়েছে আক্রান্ত ওই যুবকের নাম সনাতন চালক। বাড়ি দাসপুর এলাকায়। সবং থানার তেমাথানিতে অবস্থিত বেসরকারি বন্ধন ব্যাংকের অস্থায়ী কর্মী ওই যুবক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে বেলা আড়াইটা নাগাদ। দশগ্রাম থেকে তেমাথানির মধ্যবর্তী বেলকি নামক স্থানের কাছাকাছি রাজ্য সড়কের ওপরেই। ঘটনাস্থল দশগ্রাম থেকে ৬ কিলোমিটার ও তেমাথানি থেকে ৪কিলোমিটার দূরে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে বন্ধন ব্যাঙ্কের ওই কর্মচারী দশগ্রাম ও সন্নিহিত এলাকা লোনের প্রায় ৭০ হাজার টাকা আদায় করে ফিরছিলেন তেমাথানির দিকে। ওই কর্মী বাইকে করে ফিরছিলেন। এই সময় আরেকটি বাইকে পেছনে পেছনে আসছিল দুই দুষ্কৃতী।পেছন থেকে ওই দুষ্কৃতীরা যুবককে দাঁড়াতে বলে। কিন্তু ওদের গতি সন্দেহ জনক হওয়ায় দাঁড়ায়নি সে। এরপরই চলন্ত অবস্থাতেই এক দুষ্কৃতী গুলি চালায় ওই কর্মীর বাইক লক্ষ্য করে। গুলি লাগে বাইকের ইঞ্জিনের ঠিক ওপরে। অল্পের জন্য বেঁচে যায় যুবকের ডান পা।
গুলি লাগায় আতঙ্কে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে বন্ধন ব্যাঙ্কের ওই কর্মী। এরপরই বাইক থেকে নামে ওই দুষ্কৃতীরাও। এরপরই সরাসরি তার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে কাছে থাকা ব্যাগটি দিয়ে দিতে বলে। যুবক ভয়ে দিয়ে দেয়। সেই ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয় দুজন। ওই ব্যাগে ৬৯ হাজার কয়েকশ টাকা ছিল। এছাড়াও ল্যাপটপ আর দুটি ফোন নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। সেই সময় রাস্তা প্রায় ফাঁকা থাকায় ঘটনাটি তাৎক্ষণিক ভাবে আশেপাশের কারও নজরে পড়েনি। পরে পথচারী ও স্থানীয়রা চলে আসে। খবর যায় সিভিক ভলান্টিয়ারের কাছে। খবর পায় পুলিশও।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় সবং থানার পুলিশ। যুবকের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর সরে জমিনে জায়গাটি খতিয়ে দেখে পুলিশ। বাইক ও যুবককে থানায় নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ দায়ের করেন ওই যুবক। গুলি লাগা বাইকটি সিজ করেছে পুলিশ। প্রয়োজনে সেটির ব্যালেস্টিক পরীক্ষা হতে পারে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান কয়েকদিন আগে থেকেই রীতিমত রেইকি করে এই ব্যাঙ্ককর্মীদের যাতায়াতের ওপর নজর রেখেছিল দুষ্কৃতীরা। টাকা আদায় করে ফেরার সম্ভাব্য সময়, রাস্তার ফাঁকা অংশ এবং প্রয়োজনে পালানোর জন্য আশেপাশের গ্রামীন সড়ক কয়েকদিন ধরে খতিয়ে দেখার পরই এই অপারেশন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।






