TRENDS

কলকাতার বিজ্ঞানীর হাত ধরেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বিনাশের আশা দেখছেন গবেষকরা

বিশ্বজিৎ দাস:ব্ল্যাক ফাঙ্গাস করোনা ভাইরাসের অতিমারির মধ্যেই আশঙ্কার কালো মেঘ তৈরি করেছে । একাধিক কোভিড রোগীর শরীরে এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের থাবা বসিয়েছে দেশজুড়ে।

একাধিক রাজ্যে এই রোগকে মহামারী বলে ঘোষণা করা হয়েছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোধক ওষুধ অয়াম্ফোটেরিসিন-বি ইনজেকশনের অতিরিক্ত ২৯ হাজার ২৫০ টি ভায়াল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।তবে দেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের এই ওষুধ বেশি নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, “যেখান থেকে পারবেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ওষুধ জোগাড় করুন।”

এমনকি সরকারের কাছে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে এই ছাত্রাকঘটিক সংক্রমণের মোকাবিলা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগার, কোভিডের চিকিৎসার সময় স্টেরয়েডের অপব্যবহার-এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি হায়দরবাদ ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চের গবেষকরা একটি ট্যাবলেট তৈরি করেছেন। ৬০ মিলিগ্রামের এই ট্যাবলেটের দাম মাত্র ২০০ টাকা। গবেষকরা জানাচ্ছেন, পকেট ফ্রেন্ডলি এই ওষুধের তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানাচ্ছেন তাঁরা। একইসঙ্গে জানা গিয়েছে, এই ওষুধ রোগীর কিডনিতে কোনওরকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে না।

IIT হায়দরাবাদের অধ্যাপক সপ্তর্ষি মজুমদার এবং ডা: চন্দ্র শেখর শর্মা জানিয়েছেন,”এই ট্যাবলেট খুব সহজেই রোগীর মুখের মধ্যে ন্যানোফাইবার উৎপন্ন করবে যা মিউকরমাইকোসিস নষ্ট করতে সক্ষম হবে।”

এই প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা আত্মবিশ্বাসী যে, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কোনও ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে এই ওষুধের বৃহৎ পরিমাণে উৎপাদন সম্ভব।

এই মুহূর্তে দেশে ব্ল্যাক ও অন্যান্য ফাঙ্গাসের চিকিৎসায় Kala-Azar-এর চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। এই পরিস্থিতিতে নতুন ওষুধের শীঘ্রই ট্রায়াল প্রয়োজন বলে মনে করছেন অধ্যাপক সপ্তর্ষি চৌধুরি ও Dr. চন্দ্রশেখর শর্মা এবং PhD স্কলার ম্রুণালিনী গাইধানে ও অনিন্দিতা লাহা। গত দুই বছর ধরে এই ওষুধ তৈরির কাজ করছেন তাঁরা।

প্রতিষ্ঠানের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সপ্তর্ষি চৌধুরি ও Dr. চন্দ্রশেখর শর্মা একটি পরীক্ষায় প্রমাণ করেন যে, Kala-Azar-এর চিকিৎসায় কার্যকর ওরাল ন্যানোফাইভ্রাস AMB। এই গবেষণায় অর্থের জোগান দেয় DST-Nanomission।

IIT হায়দরাবাদ-এর তৈরি এই ওষুধটি একটি ৬০ এমজি-র ট্যাবলেট। যার দাম পড়বে ২০০ টাকা। এটা রোগী-বান্ধব। কারণ, এটি ধীরে ধীরে শরীরে ছড়িয়ে পড়বে।

Home Breaking E - Paper Video Join