TRENDS

এবার রানীগঞ্জ জুড়ে একাধিক জায়গায় স্কুল কোয়ারেন্টাইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ স্থানীয় জনতার

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ের পর এবার পশ্চিম বর্ধমানের রানীগঞ্জেও স্কুলে কোয়ারেন্টাইন করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়লেন স্থানীয় জনতা। রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অন্য রাজ্যগুলিতে আসা শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন করা হবে স্কুলগুলিতেই। বাস্তবে এর বিকল্প নেই। কারন লাখে লাখে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। এত মানুষকে আলাদা করে রাখা অন্য কোথাও আপাতত নেই। কিন্তু স্থানীয় মানুষদের এই বিরোধিতা রাজ্য সরকারকে সমস্যায় ফেলতে পারে। গোয়ালতোড়ের পর রানীগঞ্জ সেই সমস্যার সৃষ্টি করল বলেই মনে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে যে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল গোয়ালতোড়ে রাত্রে সেই দৃশ্য দেখা গেল রানীগঞ্জের বল্লভপুরে পরিযায়ী শ্রমিকদের স্কুল ঘরে রাখা নিয়ে বচসা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বল্লভপুর পেপার মিল এলাকায় এলাকার মানুষজনের একটাই দাবি এলাকাটি অতি ঘনবসতিপূর্ণ এই অংশে পরিযায়ী শ্রমিকদের কোরেন্টিন সেন্টার করা হলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে সে বিষয়ের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের স্কুল বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখেই রুখে দাঁড়ান এলাকাবাসী। একইভাবে জে কে নগর এলাকায় ও পরে জামুড়িয়ার বোগড়া, ও শুক্রবার দুপুরে রানীগঞ্জের রনাই এর মাজার শরীফ হুসেন নগর এলাকায় এলাকার বাসিন্দারা দাবি করতে থাকে যে তাদের পাড়াতে কোরেন্টিন সেন্টার করতে দেওয়া হবে না।

শুক্রবার দুপুরে মাজার শরীফ লাগোয়া হুসেন নগর এলাকার কয়েকশো বাসিন্দা ক্ষোভে ফেটে পড়ে তারা এদিন কোরেন্টিন সেন্টার গড়ে তোলার বিরুদ্ধে সরব হয় সেই পথ দিয়ে যাওয়া রাস্তা কে পাথর এর ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে আগলে রাখেন। তাদের একটাই দাবি ভবঘুরেদের রাখার জন্য সেখানে একটি ম্যান বেচারা নামক আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে কোন মতেই পরিযায়ী শ্রমিকদের রাখা যাবে না। তাদের একটাই দাবি অংশে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাখা হলে তাদের মধ্যে যদি কেউ সংক্রমিত হয়ে থাকে তাহলে সেই সংক্রমণ এলাকায় সহজেই ছড়িয়ে পড়বে কারণ ওই এলাকাটি ঘন জনবসতিপূর্ণ যে কারণে সংক্রমণ ছড়ানো রয়েছে এমনই দাবি করে তারা।
রানীগঞ্জ জুড়ে এই বিক্ষোভের ফলে অনেকটাই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে প্রশাসনের মধ্যে। কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হবে কোথায় করা হবে এবং এই সব এলাকায় আদৌ করা যাবে কিনা তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনকে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join