TRENDS

বাড়ি বানাতে অসহযোগিতা, পৌরসভা চত্ত্বরেই উনুনে হাঁড়ি চাপালেন গিন্নি! নাটক বলল তৃনমূল

Chandramani Saha

বাড়ি বানাতে অসহযোগিতা, পৌরসভা চত্ত্বরেই উনুনে হাঁড়ি চাপালেন গিন্নি! নাটক বলল তৃনমূলনিজস্ব সংবাদদাতা: একেবারে ধামা ভর্তি আলু, বেগুন, শাক সবজি। তরকারি বানাবেন বলে বঁটিতে সবজি কুটছেন গিন্নি।উনুনে হাঁড়িতে ফুটছে ভাত! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার রামজীবনপুর পৌরসভা চত্ত্বরে একেবারে গুছিয়ে বসেছে সংসার। বৃহস্পতিবার এই কান্ড দেখে ভিড় জমে গেছে পৌরসভা চত্বরে। ভাতের গন্ধ ম ম করেছে এলাকা। পরিবারের অন্য সদস্যরা পলিথিন বিছিয়ে বসে আছেন পৌরসভার মেঝেয়। ভাবটা এমন যে রান্না হয়ে গেলেই খেতে বসবেন।  অভিনব কান্ডে রীতিমতো হৈ চৈ কান্ড!বাড়ি বানাতে অসহযোগিতা, পৌরসভা চত্ত্বরেই উনুনে হাঁড়ি চাপালেন গিন্নি! নাটক বলল তৃনমূল

কিন্ত কী এমন ঘটল যে নিজের বাড়ি ছেড়ে গিন্নি পৌরসভার চত্বরে ভাত চাপালেন? জানতে চাইলে রামজীবনপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা উত্তম রুইদাস জানান, ‘বাংলার বাড়ি’ যোজনায় বাড়ির বরাদ্দ এসেছিল তাঁর নামে। পৌরসভা সেটা নিশ্চিত করার পর ইঞ্জিনিয়ার বাড়ির লে-আউট করবে বলবে তিনি তাঁর পুরানো বাড়ি ভেঙে দেন কিন্তু আজকাল করে পৌরসভা টালবাহানা করেই যাচ্ছে তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা ঘর সংসার উঠিয়ে নিয়ে পুরসভায় উঠে এসেছেন। এখানেই রান্নাবান্না ও থাকার ব্যবস্থা করবেন।

রামজীবনপুর পৌরসভার অন্তর্গত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উত্তম রুইদাস বলেন, “পুরসভার নতুন আবাস যোজনার বাড়ির তালিকাতে তৃতীয় তালিকায় আমার নামে বাড়ি বরাদ্দ হয়েছিল । সেইমতো পুরসভার কাছ থেকে জেনে প্রাথমিকভাবে প্রক্রিয়া শুরু করে নির্মাণের আগে আমি আমার পুরনো বাড়ি ভেঙে ফেলি। কিন্তু এখন পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার বলছেন আমার বাড়ির লে-আউট করার আদেশ নেই।”
উত্তমের স্ত্রী অর্থাৎ গিন্নি ঝরনা বলেন, ” আমরা বিজেপি করি তাই আমাদের এইভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, বাড়ি ভেঙে দিয়ে বর্তমানে আমরা সপরিবারর আশ্রয়হীন। যতদিন না বাড়ি হয় এই পৌরসভাতেই থেকে যাব এমনটাই মন স্থির করেছি।”

স্থানীয় বিজেপি নেতা শিবরাম দাসের অভিযোগ বিজেপি সমর্থকদের প্রাপ্য বাড়ি গুলি নিয়ে চূড়ান্ত অসহযোগিতা করছে তৃনমূল বোর্ড। কারও বাড়ি অর্ধেক হয়ে পড়ে রয়েছে তো কারও ভিত কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। এই অসহায় মানুষরা এখন কোথায় থাকবেন। তাই সবাইকে বলেছি পৌরসভাতেই চলে আসতে। কয়েকদিনের মধ্যে আরও কিছু পরিবার আসবে।” পুরো ঘটনাকেই নোংরা নাটকের রাজনীতি বলে দাবি করেছেন রামজীবনপুর পৌরসভার পৌরপ্রধান নির্মল চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে সমস্ত জায়গাতেই কাজ বন্ধ ছিল। কিছু পর্যায়ের টাকা এখনও সরকার থেকে আসেনি কিন্তু তাই বলে কারও বাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়নি।’

নির্মল চৌধুরী আরও বলেন, “আমরা ৩দিন আগেই এই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। বলেছি টাকা আসলেই কাজ হবে। ইঞ্জিনিয়ারকেও বলা হয়েছিল আজই লে আউট দেওয়ার কথা কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার ওঁদের বাড়ি যাওয়ার আগেই বিজেপির পাল্লায় পড়ে এই কাজ করেছেন। এই পৌরসভায় বিজেপির নেতা, কাউন্সিলরাই বাড়ি পেয়েছেন তো একজন কর্মীর বাড়ি আটকে আমরা কী করব?”
এরপরই পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার উত্তম রুইদাসের বাড়িতে গিয়ে বাড়ির নকশা চিহ্নিত করে দিয়ে আসেন। হাঁড়ি গুটিয়ে ফের বাড়িতে ফিরে গেছেন গিন্নি।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join