TRENDS

খেজুর গাছে উঠল জলে ভেসে আসা ক্ষুধার্ত অজগর! উদ্ধার করলেন গোপীবল্লভপুর গ্রামবাসীরাই

Chandramani Saha

খেজুর গাছে উঠল জলে ভেসে আসা ক্ষুধার্ত অজগর! উদ্ধার করলেন গোপীবল্লভপুর গ্রামবাসীরাইনিজস্ব সংবাদদাতা: জঙ্গল থেকে লোকালয় হয়ে বড়জোর গৃহস্থের গোয়ালঘর এতদিন অবধি এরকমই দেখা গিয়েছে অজগরের গতি। হাল আমলে জঙ্গল কেটে ফেলা, জঙ্গলে আগুন লাগানো ইত্যাদি কারণে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে মাঝে মধ্যেই দেখা মিলছে অজগরের কিন্তু তাবলে গাছে অজগর সাপ! না, এর আগে তেমনটা দেখা যায়নি বলেই জানিয়েছেন ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর থানার বাকড়া গ্রামের বাসিন্দারা। গাছে দাঁড়াশ বা স্থানীয় ভাষায় ঢ‍্যামনা সাপ অন্যান্য কিছু প্রজাতির সাপ দেখা গেছে। পাখির ডিম, শাবক ইত্যাদির খোঁজে কিছু সাপ গাছে ওঠে বটে কিন্তু অজগরের গাছে ওঠা এই প্রথম দেখল বাকড়ার বাসিন্দারা। শুধু দেখলই না, রীতিমত অত্যন্ত নিরাপদে সেই সাপকে গাছ থেকে নামিয়ে বনদপ্তরের হাতে তুলেও দিলেন তাঁরা। বন্যপ্রাণ রক্ষায়, পরিবেশ সচেতনতায় এই ভূমিকা রীতিমতো প্রশংসার দাবি রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে বাকড়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি সেচ খালের পাড়ে অবস্থিত খেজুর গাছের ওপর প্রচুর পাখির চেঁচামেচি দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি বালকের। বালক দেখে গাছের ওপর জন্তু জাতীয় কিছু। এরপরই সে কাছেই গো-চারনে ব্যস্ত দুই মহিলাকে বিষয়টি জানায়। লতাপাতায় আবিষ্ট খেজুর গাছের মধ্যে ওই সাপটির কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছিল যাতে সেটা সাপের বদলে অন্য প্রাণী বলেই মনে হয়। ইতিপূর্বে এতবড় আকারের সাপকে গাছে না দেখায় তারা ধারনাই করতে পারেনি। ভালো করে নজর করার পর তারা বুঝতে পারেন এটি একটি বড় ধরনের একটি সাপ।

মহিলাদের মারফৎ খবর যায় গ্রামে। গাছে অজগর সাপ দেখতে প্রচুর গ্রামবাসী জড়ো হয়ে যান। গ্রামবাসীরা প্রথমে খবর দেন বনদপ্তরে। বন কর্মীদের আসতে দেরি হচ্ছে দেখে সাপটিকে উদ্ধার করতে নামেন বাকড়া গ্রামেরই কয়েকজন সাহসী ব্যক্তি। সাপটি নামানোর আগে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। এমনিতেই খেজুর গাছের পাতা খসে পড়ার পর গাছের কান্ড খসখসে ও ধারালো হয়। তার ওপর কান্ডটি বেয়ে অজস্র লতাগুল্ম ছিল। উদ্ধার কারি এক যুবক জানিয়েছেন, ‘ আমরা জানতাম সাপটিকে নামানোর সময় সেটি কান্ডকে পেঁচিয়ে থাকার প্রানপন চেষ্টা করবে। অন্য দিকে আমরা সেটিকে টেনে নামানোর চেষ্টা করব। এই দুই বিপরীত টানে সাপটির চামড়া ছিলে যেতে পারে। এমনকি সাপটি মাঝামাঝি ছিঁড়ে যেতেও পারে। তাই প্রথমেই আমরা ওই গাছটির নিচ থেকে যতদূর সম্ভব পরিস্কার করি। লতা,গুল্ম, গাছের কাঁটাওয়ালা ধারালো অংশ পরিষ্কার করা হয় দা দিয়ে। তারপর অতি সাবধানে সাপটিকে নামানো হয়। আমাদেরও ভয় ছিল সাপটি কামড়ে না দেয়। বিষ না থাকলেও হাতের আঙ্গুল কিংবা কব্জি অবধি সেটি কামড়ে দিতেই পারে।’

ইতিমধ্যেই গোপীবল্লভপুর বনদপ্তরের দুই
বনকর্মী এসে পড়েন। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় অজগরটিকে। বনকর্মীরা জানিয়েছেন আনুমানিক ৮ ফুটের এই অজগরটির ওজন ১০/১২ কেজি হবে। এটি একটি শিশু অজগর। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের ফলে জঙ্গল থেকে বয়ে আসা ওই সেচখালে পড়ে গিয়ে জলের স্রোতে ভেসে আসতে পারে সেটি। আর খিদের চোটেই সে পাখির বাসা লক্ষ্য করে উঠে গিয়েছিল খেজুর গাছে। ডিম অথবা পক্ষীশাবকের খোঁজে। বনকর্মীরা আরও জানিয়েছেন, সাপটিকে পর্যবেক্ষণনের পর গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে নতুন ঠিকানায়।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join