TRENDS

হাওড়া হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে করোনা রিপোর্ট লিখলেন প্রাইভেট ডাক্তার, অভিযুক্তের শাস্তির দাবি হাসপাতাল সুপারের

Abhirup Maity

ওয়েব ডেস্ক : গত কয়েকদিনে ভুয়ো করোনা রিপোর্ট নিয়ে সোরগোল পড়ে গিয়েছিল শহর কলকাতায়। গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা পুলিশে কর্মরত এক কর্মীর দুই ছেলে সহ মোট ৩ জনকে। এরপরই আরও এক ঘটনা সামনে আসেতেই একেবারেই চক্ষু চড়কগাছ রোগী পরিবারের। চেম্বারে বসে হাওড়া জেলা হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট লিখে দিলেন এক চিকিৎসক। কিন্তু তাজ্জবের বিষয় এই যে ওই রোগী কোনওদিন হাওড়া হাসপাতালে ভর্তিই হননি। তবে হঠাৎ এমন কান্ড ঘটাতে গেলেন কেন ওই চিকিৎসক?

এই বিষয়ে ওই ব্যক্তিকে চেপে ধরতেই অভিযুক্ত চিকিৎসক অবলীলায় বললেন, “রোগীর অবস্থা ভাল ছিল না। হাসপাতালে গেলে ঝক্কি পোহাতে হত। তাই অন্য জায়গা থেকে করোনা পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট দিয়েছি।” কিন্তু এই ঘটনার পিছনে আদতে কি লুকিয়ে আছে? কেনই বা ওই চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেট ব্যাবহার করতে গেলেন ওই চিকিৎসক তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। একই সাথে কিভাবে সরকারি হাসপাতালের সার্টিফিকেট হাসপাতালের বাইরে গেল তা নিয়েও প্রশ্নের মুখে হাওড়া জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা গিয়েছে, ১০ জুলাই জ্বর নিয়ে অমিত বিক্রম নামে ওই চেম্বারে গিয়েছিলেন আলিপুরের এক যুবক। দ্রুত জ্বর কমার জন্য ওই যুবককে বেশ কয়েকটি দামি ইনঞ্জেকশন ও ওষুধ দেন ওই চিকিৎসক। এমনকি সেই ওষুধ ওই চিকিৎসকের চেম্বার থেকেই কিনতে হবে বলে জোর করেন তিনি। দু’দিনের মধ্যেই রোগী অনেকটা সেরে ওঠে৷ এরপর ফের অমিত বিক্রম নামে ওই চিকিৎসকের নামে সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যেহেতু রোগীর জ্বর ছিল, সেকারণে তাঁর করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। এই বলে চিকিৎসক নিজেই নমুনা সংগ্রহ করেন এবং ৩১০০ টাকা নেন৷ কিন্তু ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও করোনা রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসক যোগাযোগ না করলে শেষমেশ রিপোর্টের জন্য যুবকের পরিবারের তরফে ফোন করা হয় চিকিৎসককে।

সেসময় ওই চিকিৎসক জানান, ওই যুবক করোনা আক্রান্ত। এরপর তাঁরা রিপোর্ট দাবি করতেই রিপোর্ট দিতে রাজি হন না অমিত বিক্রম। তিনি বলেন, এই রিপোর্ট মৌখিকভাবেই জানানো হচ্ছে। কিন্তু রোগীর পরিবার এই কথা মানতে রাজি না হওয়ায় যুবককে চেম্বারে যেতে বলেন অমিত। অভিযোগ, সেখানে যেতে প্রথমে ওই যুবককে জানানো হয় যে তিনি আক্রান্ত নন, আগের রিপোর্ট ভুল ছিল। এরপর যা করেন তা একেবারেই চমকে যাওয়ার মতো ঘটনা। হাওড়া হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে লিখে দেওয়া হয় ১৯ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ওই ব্যক্তি নাকি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং তিনি করোনা আক্রান্ত নন। স্বাভাবিকভাবে এতেই সন্দেহ দানা বাঁধে যুবকের মনে। প্রশ্ন জাগে যে, ভর্তি না হওয়া সত্ত্বেও ওই চিকিৎসক কেন হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে একথা লিখলেন? প্রাইভেটে চিকিৎসা করাতে এসে কেনই বা তাকে সরকারি ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দেওয়া হল তাকে?

এরপরই গোটা ঘটনা জানিয়ে কলকাতা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এবিষয়ে হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপার নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, “এই ডিসচার্জ সার্টিফিকেট ভুয়ো।” জানা গিয়েছে, অমিত বিক্রম নামে একজন হাওড়া হাসপাতালের ডিএনবি পিজিটি রয়েছেন। কিন্তু তিনিই সেই ব্যক্তি কিনা সে বিষয়টি এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি৷ যদিও এবিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের দাবি, “তিনিই হাওড়া হাসপাতালের পিজিটি। রোগীর ভালর জন্যই নাকি একাজ করেছিলেন তিনি!” এদিকে এই ঘটনা জানাজানি হতেই অভিযুক্ত চিকিৎসকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন হাওড়া হাসপাতালের সুপার।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join