TRENDS

পরিকল্পনা করেই জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের, ক্ষোভপ্রকাশ শঙ্করাচার্য সরস্বতীর

Chandramani Saha

ওয়েব ডেস্ক : প্রতিবছর পুরীর জগন্নাথ দেবের রথের রশি টানতে হাজার হাজার ভক্তের ভীড় জমে। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় এবছর জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে গত বৃহস্পতিবার এই স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। মন্দিরের প্রধান সেবাইতের তরফে সুপ্রিমকোর্টের কাছে আবেদন করা হয়েছিল, ইতিহাস প্রাচীন পুরীর মন্দিরের রথযাত্রা যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না করা হয়। তার বদলে আদালত অনুমতি দিলে ভক্তদের অনুপস্থিতিতে যন্ত্রের মাধ্যমে রথ চালানো যেতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও সুপ্রিকোর্টের তরফে কোনোরকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন পুরীর শঙ্করাচার্য স্বামী নিশ্চলানন্দ সরস্বতী৷ তাঁর অভিযোগ, করোনা সংক্রমণ আসলে ছুঁতো, শীর্ষ আদালতের তরফে পরিকল্পনা করেই রথযাত্রা আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এবিষয়ে বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র ভক্তদের উপস্থিতি ছাড়াই রথযাত্রার অনুমতি চেয়ে শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু আদালতের তরফে কোনোরকম প্রতিক্রিয়া মেলেনা। এমনকি শীর্ষ আদালতে একের পর এক আবেদন পত্র জমা দেওয়া হয়৷ এমনকি পুরীর রাজা গজপতি দিব্যসিং দেবের তরফেও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েককে রথযাত্রার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কোনো কিছুতেই সুরাহা না মেলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ওপর রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দেন ওড়িশাবাসী।

এবিষয়ে পুরীর শঙ্করাচার্য বলেছিলেন, “রথযাত্রা বাতিল করার সিদ্ধান্ত সঠিক নয়৷ এ পর্যন্ত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিমকোর্টে মোট ৪টি আবেদন পত্র জমা করা হয়৷ কিন্তু কোনো কিছুতেই সুরাহা হয়নি৷ ভক্তদের সমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে শুধুমাত্র সেবাইত এবং পুলিশের উপস্থিতিতে রথযাত্রার আয়োজন করে সুপ্রিম কোর্ট দেবতাদের রথে তোলার অনুমতি দিতেই পারত৷ ভক্তদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে গোটা অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা গেলে এবছর টেলিভিশনের মাধ্যমেই ভক্তরা জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রায় অংশ নিতেন।”

পুরীর মন্দিরের ইতিহাসে এর আগে বহুবার নানা সংকটের মধ্যেও কোনোবছর জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রা বন্ধ হয়নি। ১৯৭২ সালে ‘আমেরিকান ফ্লু’ নামক মহামারীর সময়ও জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা আয়োজিত হয়েছিল। এত বছরে এই প্রথমবার পুরীর রথের রশিতে টান না পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভয়ঙ্কর কোনো বিপদের আশঙ্কা করছেন ওড়িশাবাসী।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join