অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়া—পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা এলাকা জুড়ে এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পিংলা থানার পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে।
কী ঘটেছে পিংলায়
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পিংলার বাসিন্দা এবং তাঁর আগেই দু’টি বিয়ে হয়েছে। দুই স্ত্রী বর্তমানে জীবিত। সেই অবস্থাতেই তিনি আরও এক মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। সম্পর্কটি দীর্ঘদিন চলার পর ধীরে ধীরে তা জটিল আকার নিতে শুরু করে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা নিয়েও নানা তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের তরফে তাঁকে জানানো হয়েছিল যে তাঁর আয়ু সীমিত হতে পারে। এই শারীরিক অবস্থার মধ্যেও ওই সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, সম্পর্কের সময় কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সেই ভিডিও WhatsApp-এর মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট মহিলা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি পিংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করে।প্রাথমিক তদন্তের পর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
আদালতে পেশের প্রস্তুতি
বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সামাজিক দায়িত্ব এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার—এই তিনয়ের জটিল মেলবন্ধন নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে মত অনেকের। পুলিশি তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।






