TRENDS

পিংলায় দিনে দুপুরে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে পরনের নাইটিতেই ঝুলিয়ে দিয়ে খুনের অভিযোগ

Chandramani Saha

পিংলায় দিনে দুপুরে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে পরনের নাইটিতেই ঝুলিয়ে দিয়ে খুনের অভিযোগশশাঙ্ক প্রধান: এক ২১ বছর বয়সী কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করার পর তাঁর অন্তর্বাসেই তাকে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল দুস্কৃতি অথবা দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। গোটা ঘটনাটাই ঘটেছে ওই ছাত্রীর বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যেই একটি বাড়িতে এবং দিনের বেলায়। সোমবার বিকেলে ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ আবিষ্কার করার পর ঘটনার নৃশংসতায় হতবাক ওই পরিবার এবং প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। দেখা গেছে পরনের নাইটি খুলেই তাঁকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে কড়িকাঠে। পুলিশ এই ঘটনায় এক মহিলা সহ তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার অন্তর্গত জামনা নামক এলাকায়। মৃতা ছাত্রী স্থানীয় ডেবরা ক্ষুদিরাম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে কারন সাড়ে তিনটা নাগাদ ওই মেয়েটির খোঁজ শুরু করে পরিবার আর তখন থেকেই তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিলনা। মৃতার বাবা জানিয়েছে, ‘দুপুরে আমি, আমার স্ত্রী এবং মেয়ে মিলে একই সাথে খাবার খেয়েছি। এরপরই আমার মেয়ে আমার কাছে সাবান চায় খাবার বাসনগুলি ধোয়ার জন্য। সেই সাবান নিয়ে সে বাড়ির পেছনের দিকে বাসন ধুতে চলে যায়। আমিও বাজারের দিকে চলে যাই। দুপুর সাড়ে তিনটা নাগাদও মেয়ে ফিরছেনা দেখে খোঁজ শুরু হয় কিন্তু কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলনা।”

ওই ছাত্রীর বাড়ির লাগোয়া ছাত্রীর কাকিমা জানান, ‘একবার সাবমার্শিবল পাম্প চালিয়ে আমরা সবাই বাসনপত্র ধুয়ে নেই আমরা। সেই বাসন ধুয়ে আমিও আসার একটু পরেই দিদি (মেয়েটির মা) আমাকে জানান ওকে পাওয়া যাচ্ছেনা। মেয়ের কাছে সব সময় ফোন থাকত কিন্তু এদিন ফোন করার পর দেখা যায় ফোনটি সে বাড়িতেই ফেলে রেখে গেছে। আত্মীয় স্বজন সব জায়গাতেই ক্রমাগত ফোন করা হতে থাকে। কিন্তু কোথাও খোঁজ মিলছিলনা। ইতিমধ্যে ওর বাবা ফিরে আসে। ওঁদের বাড়ির ঠিক পেছনেই একটি পুরানো মাটির বাড়ি ভেঙে তার দেওয়াল ইট দিয়ে গাঁথা হচ্ছিল। সেই কাজে নিযুক্ত ছিল ২জন পুরুষ এবং একজন মহিলা। ছাত্রীকে খুঁজতে খুঁজতে ওই ঘরের মধ্যে মেয়ের মা ঢুকে দেখতে পায় বিবস্ত্র অবস্থায় ঝুলছে মেয়েটি। শরীরের কিছু অংশে রয়েছে রক্তের দাগ। ঘটনা দেখার পরই প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন আমার জা।”

এদিকে ঘটনার খবর জানতে পেরেই ভিড় করে আশেপাশের মানুষ। তাঁরাই আটকে রাখে ওই তিন দিনমজুরকে। ছুটে আসে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় মেয়েটির দেহ যা বর্তমানে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পিংলা গ্রামীন হাসপাতালে রাখা হয়েছে। দিনমজুরিতে কর্মরত মহিলা সহ তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ঠিকই কিন্তু তার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে কী না, একজন নাকি একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ অথবা খুনের সঙ্গে যুক্ত কীনা এসব তদন্তের পরই জানা যাবে। ডাক্তারি পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্ত ছাড়া এখুনি পুলিশের পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়। এই ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত স্বাপেক্ষে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর কাকিমা বলেছেন, “একটি ফুলের নিষ্পাপ মেয়ের জীবনকে যারা এত নৃশংসভাবে শেষ করে দিল তাঁদের ফাঁসি চাই যেন আর কোনও অপরাধী কোনও মেয়ের দিকে নোংরা দৃষ্টি নিয়ে তাকাতে না পারে।”

উল্লেখ্য এই পরিবারের দুই কন্যাসন্তান। এই ছাত্রীটি ছোট, তাঁর একমাত্র দিদি রয়েছে যাঁর কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে হওয়ার কথা। ঘটনার সময় সে অবশ্য ছিলনা। পড়াশুনার সূত্রে বাইরে থাকে সে। খবর পেয়ে সে রওনা দিয়েছে। মেয়ের বাবা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই আমার স্ত্রী স্থবির হয়ে রয়েছেন। তিনি হার্টের রুগী। কী হবে কিছুই বুঝতে পারছিনা। হতচকিত ভাব কাটিয়ে উঠে দোষিদের কঠিন শাস্তির দাবিতে ফুঁসছে ওই এলাকা।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join