TRENDS

গঙ্গায় একের পর এক লাশ! যোগী-মোদি-নীতিশ সরকারকে নোটিশ দিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনা কালের সবচেয়ে অমানবিক ও মারাত্মক ঘটনা দেখল দেশ। দেখল গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে একের পর এক লাশ! একটা নয়, দশটা নয় অন্ততঃ ৭০টি লাশ। মৃত্যুর পর মানুষের সম্মানজনক শেষকৃত্য হওয়ার অধিকার যেমন লঙ্ঘন করা হয়েছে তেমনই জলে লাশ ভাসিয়ে দিয়ে সংক্রমন ছড়ানোর মত ভয়ঙ্কর ঘটনাও এটি। নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের দেহ পুড়িয়ে ফেলা কিংবা মাটির অনেক গভীরে পুঁতে দিতে হয় এই ধরনের মৃতদেহ। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় আলোড়ন ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এবার সেই মৃতদেহ ভেসে যাওয়ার ঘটনায় উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে নোটিশ পাঠাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কমিশনের তরফে নোটিশ পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিহার সরকারকেও।

বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, গঙ্গায় মৃতদেহ ভেসে থাকা নিয়ে উত্তরপ্রদেশ ও নীতিশ কুমারের সরকারের মুখ্যসচিবকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদী সরকারের জলশক্তি মন্ত্রককেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে। কমিশনের তরফে এদিন স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার ব্যাপারে সরকারের তরফে ব্যর্থতা স্পষ্ট।পাশাপাশি মৃতদেহ যে দাহ না করে বা অর্ধদগ্ধ অবস্থায় নদীতে ভাসিয়ে দিতে নেই, সেই বিষয়েও মানুষকে সচেতন করে তোলা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ১১ মে প্রথমে উত্তরপ্রদেশে গঙ্গার জলে মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়। গঙ্গার জলে ৭০টির বেশি মৃতদেহ ভাসতে দেখে বক্সার প্রশাসন, যা দেখে গোটা দেশ শিউরে ওঠে।ওই একইদিনে উত্তর প্রদেশের গাজিপুর থেকে ১২টি মৃতদেহ ভেসে আসতে দেখা যায়। একাংশের দাবি, যে মৃতদেহগুলিকে ভাসতে দেখা গিয়েছে, সেগুলি করোনা আক্রান্তদের দেহ। যদিও সেই অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি। মৃতদেহ গুলি তাঁদের রাজ্য বা জেলার নয় বলে জানিয়ে দিয়েছিল বক্সার জেলা প্রশাসন। তাঁরা যে দিক নির্দেশ করেছিলেন তাতে মৃতদেহগুলি উত্তরপ্রদেশের বলেই মনে হয়েছে। যদিও উত্তরপ্রদেশ সরকার সে দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে জলে ভাসা সেই মৃতদেহ নিয়ে আলোড়নের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার দুটি জায়গায় গঙ্গার ধারে বালিতে পোঁতা একাধিক মৃতদেহ উদ্ধার হয়, যা নিয়ে রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। দেহগুলি হাজিপুর এলাকার রউতাপুর গঙ্গাঘাটে বালিতে পোঁতা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। এত বিপুল সংখ্যায় মৃতদেহ নদীর পাড়ে জমে থাকায় প্রশাসনের নজর পড়েছে।

এখনও পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে যমুনায় ও বিহারের কাটিহার ও বক্সায় গঙ্গায় লাশ ভেসে আসার ছবি নজরে এসেছে। পচাগলা, আধপোড়া মৃতদেহের গন্ধে অস্বস্তিকর, অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি নদী সংলগ্ন গ্রামগুলিতে। সংক্রমণের আশঙ্কায় একেই ভয়ে কাতর এলাকাবাসী। ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ ও নীতিশ-বিজেপি সরকারের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকেই।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join