TRENDS

করোনার আড়ালে ব্যাবসা করা যাবেনা, বেসরকারি হাসাপাতালগুলিকে হুঁশিয়ারি নবান্নের

Chandramani Saha

ওয়েব ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালগুলি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছে। কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না বেড, কোথাও আবার করোনা চিকিৎসা হবে না বলে ফেরানো হচ্ছে রোগী। এর জেরে নাজেহাল হচ্ছে রোগী পরিবার। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে একাধিক হাসপাতালে বেড না পাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ টানাপোড়েনের জেরে অবশেষে মৃত্যু হচ্ছে রোগীর।

কোনো কোনো হাসপাতাল আবার আবার করোনার চিকিৎসার পর রোগী পরিবারের হাতে তুলে দিচ্ছে বিপুল বিল, যা মেটানো যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। বেসরকারি হাসপাতালের এমন বেপরোয়া মনোভাব এই নিয়ে বুধবারই নবান্নে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর বৃহস্পতিবার বেসরকারি হাসপাতালগুলির কর্তাদের নবান্নে তলব করে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই পরিস্থিতিতে এমন স্বেচ্ছাচার একেবারেই চলবে না।

বৃহস্পতিবার বেসরকারি হাসাপাতালের কর্তাদের সাথে বৈঠকের পর মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানান, এবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রে একাধিক নিয়ম বিধি জারি করা হয়েছে। প্রতি ঘন্টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে কত বেড খালি রয়েছে তা নবান্নকে জানাতে হবে। সে অনুযায়ী রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সেই তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে আপডেট করা হবে। মনে করা হচ্ছে, এর জেরে অনেকটাই স্বস্তি পাবেন সাধারণ মানুষ। কোন হাসপাতালে বেড খালি রয়েছে না দেখেই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারবেন রোগী পরিবার।

এদিন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা বলেন, রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে প্রায় ১০,০০০ খালি বেড রয়েছে। তার মধ্যে ৮,০০০ বেড এখন খালি। তা সত্ত্বেও হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরানোর একাধিক অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এদিনের বৈঠকে রাজীব সিনহা বেসরকারি হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বেড খালি থাকলে কোনোভাবেই রোগী ফেরানো যাবে না। এছাড়াও এদিন বৈঠকে করোনা চিকিৎসার পর রোগী পরিবারের ওপর বিপুল অঙ্কের বিল চাপিয়ে দেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। মুখ্যসচিব বলেন, বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার খরচ শীঘ্রই কমাতে হবে। সঙ্গে কমাতে হবে করোনা পরীক্ষা ও পিপিই-র দাম।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কলকাতার একাদিক বেসরকারি হাসপাতালের বেনিয়ম ও মোটা অঙ্কের বিল চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে শুধুমাত্র যে এ চিত্র বেসরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রেই তা কিন্তু হয়। রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালেও বেড নিয়ে যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছে৷ অনেক ক্ষেত্রেই বেড না পেয়ে একাধিক হাসপাতাল ঘুরছে রোগীরা। এছাড়াও সম্প্রতি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে দালাল চক্র নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। রোগীদের আইসিইউতে ভরতি করতে হলে দিতে হচ্ছে মোটা টাকা। এমনকি জল কিংবা বিস্কুট রোগীর কাছে পৌঁছাতে হলেও দিতে হচ্ছে মোটা টাকা।

টাকার কথা কাউকে জানালে রোগীর অক্সিজেন খুলে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের মধ্যে দালালদের এভাবে অবাদ আনাগোনা কিভাবে? তবে কি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথেই এই দালালচক্রের যোগ সাজুক রয়েছে, উঠছে নানা প্রশ্ন।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join