TRENDS

চোলাইয়ে জর্জরিত জেলা। মদের টাকার জন্য পিংলার পর এবার মোহনপুরে ছেলের হাতে খুন বাবা

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: আবারও খুন, আবারও ছেলের হাতে বাবা খুন এবং আবারও খুন সেই মদের জন্য। আরও স্পষ্ট করে বললে চোলাই মদের জন্য খুন। পর পর দু’দুটি ঘটনায় স্তম্ভিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। পিংলা থানা এলাকার পর এবার মোহনপুর থানা এলাকাতেও ছেলের হাতে বাবা খুন হওয়ার ঘটনা ঘটল। আর এবারও সেই মদের জন্য টাকা যোগান দিতে না পারাতেই এই খুনের ঘটনা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, মোহনপুর থানা এলাকার সীতাপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যাবেলায়। মৃত ব্যক্তির নাম অমূল্য বেরা, বয়স ৬৫বছর। অমূল্যবাবু শুধু বয়স জনিত কারনে অশক্তই ছিলেন না সঙ্গে দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর এক মাত্র ছেলে বছর তিরিশের সৌরভ ওরফে চন্দন বাবার কাছে টাকা চায়। কিন্তু অমূল্য বাবু টাকা দিতে পারবেনা বলে জানায়। এরপরই বাবাকে ব্যাপক মারধর ও টানা হেঁচড়া শুরু করে চন্দন।

পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায় রুগ্ন, রোগা মানুষটিকে অন্ততঃ দু’দুবার আছাড় দেওয়া হয়েছিল যার ফলে তাঁর ডান পা ও বাঁ হাত ভেঙে যায়। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে চোট রয়েছে। পুলিশের ধারনা ময়নাতদন্তে বুকের এবং অন্যান্য জায়গার হাড়েও চিড় ধরে থাকার রিপোর্ট মিলতে পারে। বাড়ির বৃদ্ধা মা বাধা দিয়েও উন্মত্ত ছেলের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি স্বামীকে। এরপর বাবা নিস্তেজ হয়ে পড়ে রয়েছে দেখেই চম্পট দেয় সৌরভ।

স্থানীয় মানুষজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে বৃদ্ধকে হাসপাতালে পাঠালে মৃত্যু নিশ্চিত করে চিকিৎসকরা। এরপরই দেহ পাঠানো হয় খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে। উল্লেখ্য ওই দিন রাতেই পিংলা থানার সাঁতই গ্রামে মাতাল ছেলের হাতে খুন হয়েছেন ৫৯বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। এখানেও পর্যাপ্ত টাকা না দেওয়ায় স্ত্রী আর ছেলের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে বৃদ্ধ। অভিযোগ মায়ের সাহায্য নিয়ে গলায় গামছা জড়িয়ে বাবাকে খুন করে ছেলে। পুলিশ মা ও ছেলে দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে কিন্তু মোহনপুরের ঘটনায় পলাতক ছেলে। পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।

দু’জায়গা থেকেই খবর এসেছে চোলাই মদের দাপটে দিশাহারা হয়ে পড়েছে গ্রামীন এলাকার বিভিন্ন জায়গার পরিবার গুলি। লকডাউনের কর্মহীনতার পাশাপাশি সামান্য উপার্জনও চলে যাচ্ছে চোলাই গর্ভে। সংসারে সংসারে নেমে আসছে চুড়ান্ত অশান্তি। চোলাই দাপটে বেসামাল হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join