TRENDS

শুভেন্দুর পথেই কী মন্ত্রী রাজীবও! জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী:গত ২৯শে মে শুভেন্দুর গড় হলদিয়াতে দল পাঠিয়েছিল মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুজিত বসুকে। শুভেন্দু সেই সবে মন্ত্রীত্ব ছেড়েছেন। দলের উদ্দেশ্যে ছিল দুই মন্ত্রীকে দিয়ে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কিছু কড়া কথা বলানো কিন্তু শুভেন্দুর বিরুদ্ধে একটিও কথা বলেননি। শুধু তাই বিগত কয়েকমাস ধরেই বেসুরো বাজছেন রাজীব। তারপর অনেকেই বলছেন,‘আগে আগে দেখিয়ে হোতা হ্যায় ক্যায়া!’- শুভেন্দু, অতীন, শীলভদ্রের পর বিদ্রোহীদের তালিকায় বনমন্ত্রী রাজীব যেন নয়া সংযোজন।

শনিবার টালিগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ফের নয়া গুঞ্জন রাজ্য রাজনীতিতে। এদিন রাজীব বলেন, ‘দলে যারা স্তাবকতা করে তাদের নম্বর বেশি। আমি পারি না বলে আমার নম্বর কম।‘ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘শুনুন আমি এখানে আমি কিছু মন্তব্য করেছি। আমি শুধু একটা কথাই বলেছি যে স্তাবকদের বা মানুষ যাদের পছন্দ করেন না, তারা যেন সামনের সারিতে না থাকি। এটাই ছিল আমার বক্তব্য আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে বলিনি।‘ এরপরেই তিনি বলেন, আগে আগে দেখিয়ে হোতা হ্যায় ক্য়ায়া!

রাজীব বাবু সাংবাদিকদের সামনে আরও বলেন, “আজ রাজনীতি থেকে যুব সমাজ বিমুখ কেন? যুবসমাজ কেন রাজনীতি থেকে পিছিয়ে রয়েছে? বাংলায় দেখতে পারছি, রাজনীতি থেকে বিমুখ যুবসমাজ। কেন বিমুখ? নিশ্চিত ভাবে কিছু রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাজকর্ম হয়তো যুবসমাজ হতাশ করেছে। তাঁদের অনেক রকম স্বপ্ন ছিল। সেগুলো সফল করার ইচ্ছে ছিল। তাঁদের বাসনা ছিল। তা পূর্ণ হয়নি। সুতরাং কেন রাজনীতি থেকে তারা দূরে সরে যাবে, তা দেখতে হবে।কয়েকজন খারাপ মানুষের জন্য তাঁরা দূরে সরে যাবে, তা হয় না। কয়েকজনের জন্য তো রাজনীতিকে খারাপ বলতে পারি না। যুবসমাজকে আবার রাজনীতির দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁদের মনের মধ্যে যে যোগ ক্ষোভ রয়েছে, তা প্রশমণ করতে হবে।”

শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়লে দলের ক্ষতি হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, “নিঃসন্দেহে ক্ষতি হবে। আমার তো মনে হয় যে দলের যে কোনও কর্মী, যদি একজনও যদি চলে যান, আমার মনে হয় দলের ক্ষতি।” অতীন ঘোষের বিদ্রোহী মনোভাবের প্রসঙ্গও এদিন উঠে আসে। সে সম্পর্কে রাজীব বলেন, “দেখুন হয়তো তাঁর মনের কথা বলেছেন। তাঁর মনের কথা হয়তো ব্যাখ্যা করেছেন। আমার মনে হয় দলের অনেকেরই হয়তো এমন ব্যথা, যন্ত্রণা রয়েছে। তাঁরাও হয়তো বলতে পারছেন না।”

সাথে সাথে তিনি এও বলেন, “আমি এখনও মনে করি আমি যদি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করি তাহলে ১০০ জন মানুষের উপকার করতে পারব। তবে কেউ স্বচ্ছ্বতা, সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের কাজ, তাহলে একটা রাজনৈতিক মঞ্চের দরকার রয়েছে। মানুষের কাছে পৌঁছতে পারবো যদি আমাকে আমার মধ্যে স্বচ্ছ্বতা থাকে। সুতরাং আগামী দিনে যদি মানুষের জন্য কাজ করতে হয় তাহলে রাজনৈতিক মঞ্চে থেকে মানুষের জন্য কাজ করবে। রাজনীতিতে মানুষের স্বার্থে কাজ করতে চাইলে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকেই করতে হবে।”

স্বাভাবিক ভাবেই রাজীবের এমন বেসুর হওয়ায় অস্বস্তিতে বেড়েছে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে। একে তো গত কয়েকদিন ধরে কয়েকজন নেতাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে দল। তার ওপর রাজীবের এহেন মন্তব্য যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিন। পরিস্থিতি সামান দিতে মাঠে নামেন ববি হাকিম। তিনি বলেন, “রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রী হিসাবে ভাল কাজ করছেন। ও ভাল ছেলে। আমাদের ছোট ভাইয়ের মতো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আছেন মাথার উপর, তখন চিন্তার কোনও কারণ নেই। তিনি সব দেখছেন। সকলের জন্য ভাল করবেন।”

কিন্তু শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এইভাবে শাসক দলের একের পর এক প্রভাবশালী নেতা যেভাবে ১৮০ ডিগ্রি কোণে ঘুরে যাচ্ছেন, তাতে নির্বাচনী বৈতরণী পার করা শাসক দলের জন্য যে খুব একটা সহজ হবে না, তা স্পষ্ট।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join