TRENDS

লকডাউনে বাড়িতে বসেই বোনের সঙ্গে ত্রান বিলি করছে প্রেসিডেন্সীর প্রেসিডেন্ট

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রেসিডেন্সী এখন অনেক দুর। লকডাউন তাঁকে বেঁধে ফেলেছে কাঁথি শহরে। বাড়িতে মা বাবা আর বোন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা করেছেন লকডাউন বেড়ে গেছে আরও ১৯দিন। কলকাতা আর পূর্ব মেদিনীপুর এখন কেন্দ্রীয় তালিকায় হটস্পট। অর্থাৎ আরও ২৮দিন ঘরবন্দি জীবন , আরও সতর্কতা, করোনা যুদ্ধে আরও কঠিন লড়াই। প্রেসিডেন্সী কলেজের ছাত্রসংসদের প্রেসিডেন্ট মিমোসা ঘোড়ই আর বোন প্রত্যাশা। মা বাবা দুজনেই শিক্ষক, স্বচ্ছল পরিবার। কিন্তু পাশের বাড়ির সন্তু, যাকে দুই বোন ছটু বলেই ডাকে, কী হবে ওদের ? ওর বাবা টোটো চালায়, এখন বন্ধ। আরও আছে ভূষণ জানা, উজ্জ্বলা মাইতি ,লিচু প্রধান , ঝর্না দে , রতন মাইতি তালিকা দীর্ঘতর হয়। বুদ্ধি বাতলে দেয় সদ্য মাধ্যমিক দেওয়া প্রত্যাশাই ।
মেয়ে মা’কে বলে ” আচ্ছা মা , আমার তো টিউশন বন্ধ এখন ,স্যার দের তো এ মাসের টাকা দিতে হচ্ছে না ! দিদিকেও এ মাসে টাকা পাঠাতে হবে না – প্রেসিডেন্সির   হোস্টেল তো বন্ধ । ওই টাকা দিয়ে পাড়ার কাকু কাকিমা যাদের কষ্ট হচ্ছে , তাদের কিছু খাবার কিনে দাও না ! ”

মেয়ের এই মানবিক বায়না আরেকবার নাড়িয়ে দিলো মায়ের মনকে । এম .এস.সি পাঠরতা বড় মেয়ে মিমোসারও লুফে নেয় বোনের আইডিয়া । বাবার সঙ্গে আলোচনা করে স্থির হল প্রতিবেশী ৮০ টি দারিদ্র পরিবারের হাতে বাংলা নববর্ষের পরের দিন ১৫ এপ্রিল তুলে দেওয়া হবে ৪ কেজি করে চাল,২ কেজি আলু ,৫০০ গ্রাম ডাল ও বিস্কুটের প্যাকেট ।
আর সেই মতো বুধবার  কাঁথি পৌরসভার শেরপুর খড়কিবাড় , আঠিলাগড়ি ও মানসাতলা এলাকার পরিবারগুলির হাতে সামগ্রী তুলে দেন দুই কন্যা মিমোসা ও প্রত্যাশা ।
অন্যান্য বারের মতো নববর্ষে বেড়াতে না যেতে পারার আনন্দ এভাবে ভাগ করে নিতে পেরে ওরা দারুন খুশি ।

ওদের বাবা বসন্ত কুমার ঘোড়ই কাঁথির নয়াপুট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মা স্বপ্নারানী মন্ডল কাঁথিরই চন্দ্রামনি ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। এরই মধ্যেই কাঁথি রামকৃষ্ণ মিশনেও ১০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন। মা ও বাবার সেই মানসিকতাই বহন করছে দুই মেয়ে। বসন্ত বাবু জানালেন, ” পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে আমার বেড়ে ওঠা। কেলেঘাই নদীর পাড়ে আমাদের গ্রাম। হত দরিদ্র পরিবার বলতে কী বোঝায় হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি ছোটবেলায় ,  কারন দিনমজুরি আর ভাগ চাষ ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জন। মেয়েদের সেই গল্প করি। বলি, আকাশে মুখ রাখো কিন্তু মাটিকে ছেড়ে যেওনা কোনও দিন। ভাল লাগে যখন দেখি মেয়েরা তা মনে রেখেছে।”

মেয়েদের উদ্যোগে মায়েরও চোখের কোন চিক চিক করে। স্বপ্নারানী বলেন, ”তালিকা তৈরি হয়েছিল ৮০টি পরিবারের কিন্তু খবর পেয়ে আরও অনেক পরিবার চলে এসেছেন। এখনও অবধি ১১২টি পরিবারের পাশে দাঁড়ানো গেছে। ভাবনাটাই আসল। আমি নিজে শিক্ষিকা, ছাত্রীদের মানবিক হতে বলি। যখন নিজের ঘরে নিজের মেয়েদের মানবিক হতে দেখি তখন ভাল লাগে। ভাবি শিক্ষাটা আমরা ব্যর্থ হয়ে যায়নি। ওরা আমার শুধুই মেয়ে নয়, ছাত্রীও তো বটে!”

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join