TRENDS

চাইনা করোনা হাসপাতাল, মালদায় ভাঙচুর, আগুন

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: স্থানীয় একটি নার্সিংহোমকে করোনা হাসপাতালে পরিনত করা হবে জানার পরই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মালদহের চাঁচল। অজ্ঞতা আর আতঙ্কের মিশেল হয়ে তাণ্ডব চালানো হল নার্সিং হোমে, সামনে থাকা সাইন বোর্ড ভাঙচুর করার পর আগুন লাগিয়ে দিল জনতা। খবর এলাকায় ছুটে যায় চাঁচল থানার পুলিশ। অনেক কষ্টে সামাল দেওয়া হয় পরিস্থিতি।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে করোনা পরিস্থিতিতে উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য মালদহের ইংরেজবাজারের এবং চাঁচলের দিশারি নার্সিংহোম অধিগ্রহণ করে করোনা চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। রবিবার স্থানীয় বাসিন্দারা সেকথা জানতে পারেন। এরপরই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। নার্সিংহোমের সামনে থাকা সাইন বোর্ড ভাঙচুর করতে শুরু করেন তাঁরা। সাইন বোর্ডে আগুনও জ্বালিয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকায় রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্থানীয়দের দাবি, করোনা রোগীদের জন্য নার্সিংহোম হলে এখানে করোনা রোগীরা আসবেন। তার ফলে জনবহুল এলাকায় খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনার মত ভাইরাস ঘটিত রোগ। তাই কিছুতেই এলাকায় করোনা হাসপাতাল তৈরি করা হলে তা তাঁরা মেনে নেবেন না। সেই মতো বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। কিছুক্ষণের মধ্যে বিক্ষোভের খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। তবে এই ঘটনায় গ্রেপ্তারির কোনও খবর নেই।

উল্লেখ্য, করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের একাধিক হাসপাতালকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলেঘাটা আইডির পাশাপাশি বাঙ্গুর হাসপাতালেও শুধুমাত্র করোনা রোগীর চিকিৎসা হবে বলেই জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। সরকারির পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও মারণ ভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুযায়ী রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন তিনি। তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের হাবভাবে অবাক অনেকেই। পর্যাপ্ত করোনা হাসপাতাল তৈরি না হলে কীভাবে রোগীদের চিকিৎসা সম্ভব হবে? পুলিশ ও প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যদপ্তর মানু্ষের বিভ্রান্তি কাটানোর জন্য আলোচনার কথা ভাবছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join