TRENDS

ঝাড়গ্রামে বজ্রপাতে মৃত ২ কৃষক, আহত মহিলা! দুই জেলায় একদিনেই মৃত ৪

Chandramani Saha

ভবানী গিরি: অভিশপ্ত হয়ে রইল রবিবার একই দিনে ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা মিলিয়ে মৃত্যু হল চারজনের। মৃতদের মধ্যেই দুজন ছাত্র ও দুজন কৃষক। অন্যদিকে এই ঘটনায় আহত হয়েছেন এক মহিলা ও এক বালক। দুজনেই স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ঝাড়গ্রামের ঘটনাটি ঘটেছে ওই জেলার জামবনী ব্লকের লালবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন মুড়াকাটি গ্রাম। পুলিশ জানিয়েছে মৃত ব্যক্তিরা হলেন সুনীল মাহাত ( ৩৬) ও মদন রানা (৬২)।

রবিবার বেলার দিকে মুড়াকাটি গ্রামের চাষের জমিতে চাষের কাজ করছিলেন সুনীল ও মদন। ওই সময় হঠাই মেঘ কালো করে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওই দু’জন। এরপর হঠাৎই বাজ পড়ে দুজনের ওপর। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ২জনই। গোটা শরীর কালো হয়ে যায় তাঁদের। এই একই সময় কিছুটা দুরেই বাড়ির গরুগুলি নিয়ে মাঠে চরাচ্ছিলেন প্রতিমা মাহাত নামে এক প্রৌঢ়া। বজ্রপাতের প্রচন্ড বিকট শব্দে প্রতিমাও লুটিয়ে পড়েন অচৈতন্য হয়ে ।

ওই সময় মাঠের অন্য প্রান্তে কর্মরত কৃষকরা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে ছুটে আসেন গ্রামের মানুষরাও। তাঁরাই উদ্ধার করে একটি গাড়িতে করে তিনজনকেই নিয়ে যান চিল্কিগড় গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন সুনীল মাহাতো ও মদন রানাকে।
প্রতিমা মাহাতো চিল্কিগড় গ্রামীণ হাসপাতাল চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিনই পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর গ্রামীন থানা এলাকায় দুটি পৃথক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২জন ছাত্রের। গোকুলপুর রেলস্টেশনের কাছে পূর্ব আম্বা বলে একটি গ্রামে মাঠে খেলার সময় বজ্রপাতের কান ফাটা শব্দে হৃৎপিন্ড বিকল হয়ে মৃত্যু হয় সেক সইফুল নামে চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রের। আহত হয় তার খেলার সঙ্গি। বধির হয়ে যাওয়ায় খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি সে। অন্যদিকে ওই থানারই অর্জুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের খুদমার গ্রামে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় মন্টু মাহাত নামে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রের। গরু চরিয়ে ফেরার পথে বাজ পড়লে মন্টুর সাথে মারা যায় একটি গরুও।

উল্লেখ্য গত সোমবারই সারা দক্ষিনবঙ্গ জুড়ে বজ্রপাতে ৬টি জেলায় মৃত্যু হয়েছিল ২৭ জনের যার মধ্যে সর্বাধিক ১৩টি মৃত্যু হয়েছিল হুগলিতে। সেদিন পশ্চিম মেদিনীপুরেও ২জনের মৃত্যু হয়। তার ৭দিনের মাথায় ফের ৪জনের মৃত্যু উদ্বিগ্ন করেছে আবহাওয়াবিদদের। মানুষের অপরিমিত জীবনযাপন যেভাবে প্রকৃতিকে বিদ্ধস্ত করে চলেছে রুষ্ট প্রকৃতি কী তারই প্রতিশোধ নিচ্ছে তবে? অস্বাভাবিক বজ্রপাত বেড়ে যাওয়া কী তারই লক্ষণ! বিজ্ঞান উত্তর খুঁজছে তার।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join