TRENDS

“দিয়া কে দিয়া, নায় দিয়াকে হুড়কা দিয়া” শ্লোগান তুলেই মূখ্যমন্ত্রীর সভার দিনেই অবস্থান বিক্ষোভে কুড়মি সমন্বয় মঞ্

Chandramani Saha

"দিয়া কে দিয়া, নায় দিয়াকে হুড়কা দিয়া" শ্লোগান তুলেই মূখ্যমন্ত্রীর সভার দিনেই অবস্থান বিক্ষোভে কুড়মি সমন্বয় মঞ্নিজস্ব প্রতিবেদন : “দিয়াকে দিয়া, নায় দিয়াকে হুড়কা দিয়া” (দিলে দেব, না দিলে হুড়কা দেব) এই স্লোগান কে সামনে রেখে ঝাড়গ্রাম শহরে অবস্থান বিক্ষোভে নামছে কুড়মি সমন্বয় মঞ্চ। আর শুরুর দিন হিসাবে তাঁরা বেছে নিয়েছেন সেই দিনটিকেই যেদিন ঝাড়গ্রাম থেকে মাত্র ৫০কিলোমিটার দূরে পাশের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরে সভা করতে আসছেন মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। এই অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভের জন্য পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, সহ জঙ্গল মহল অধ্যুষিত সমস্ত জেলা এমন কি বিহার ঝাড়খণ্ডেও নিজেদের প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা।

কুড়মি সম্প্রদায় কে এসটি তালিকা ভুক্ত করতে হবে এর জন্য বিধানসভায় এই দাবী জনপ্রতিনিধি দের তুলে ধরতে হবে এই রকম বেশ কয়েক দফা দাবী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছে কুড়মি সমাজ৷ কিন্তু তাদের দাবী পুরন না হওয়ার এবার তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝাড়গ্রাম জেলার জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। জানা গিয়েছে এই অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই দুরদুরান্তের কর্মী সমর্থকরা ঝাড়গ্রামে আসতে শুরু করেছেন৷ কুড়মি সমন্বয় মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে এই অবস্থান বিক্ষোভে চার জেলা থেকে অন্ততপক্ষে পঞ্চাশ হাজার লোক যোগ দেবে। ফলে আগামী কাল যে ঝাড়গ্রাম অবরুদ্ধ হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷

কুড়মি সমন্বয় মঞ্চের অন্যতম কর্ণধার শেখর মাহাত বলেন, এই বিক্ষোভ কর্মসূচী তে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে দশ হাজার মানুষ যোগ দেবে৷ তার জন্য জেলার প্রতিটি প্রান্তেই আমাদের প্রচার করা হয়েছে জোর কদমে। শুধু পুরুষেরাই নয়, এই অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দেবে অসংখ্য কলেজ ছাত্রী, শিক্ষিকা এমন কি গৃহবধূরাও৷ এই অবস্থান বিক্ষোভের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সমস্ত রকম ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। যোগ দেবেন রাজ্যের বাইরের নানান নেতৃত্বরা। প্রশাসন যদি তাদের এই দাবী না মানে তাহলে আমরা নিজেদের দাবীর সমর্থনে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবো৷

কুড়মি সমন্বয় মঞ্চের পরিচালন সমিতির আরেক সদস্য অশোক মাহাত জানিয়েছেন, ‘ দিয়া কে দিয়া, নাই দিয়াকে হুড়কা দিয়া’ কুড়ুমালি ভাষায় এর অর্থ হল, ‘ আপনি যদি আমাদের প্রাপ্য দেন তবে আমরাও তার প্রতিদান দেব কিন্তু যদি না দেন তবে আমরা মুখ ফিরিয়ে নেব আপনার দিক থেকে।”
কুড়মি জনজাতির চারটি সংগঠনের মিলিত রূপ হল এই সমন্বয় মঞ্চ। জনজাতি হিসাবে ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়াতে প্রায় নিরঙ্কুশ আধিপত্য রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়াতেও বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে। এই চার জেলার ৪১টি বিধানসভা ক্ষেত্রের প্রায় ২৫টির জয় পরাজয় নির্ধারণ করেন এঁরা এমনটাই দাবি মঞ্চের। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এঁদের ক্ষোভ তাই শাসকের জন্য পৃথক দুশ্চিন্তা হতে চলেছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join