TRENDS

ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী থাকলো কলকাতা, প্রশাসনের গাফিলতিতে টানা ২ দিন বাড়িতেই করোনা আক্রান্ত মৃতদেহ

Abhirup Maity

ওয়েব ডেস্ক : করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়ে টানা দু’দিন বাড়িতেই পড়ে রয়েছে দেহ৷ এদিকে বারংবার প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও মেলেনি সুরাহা৷ এমনই অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকলো গোটা কলকাতা। এমন ঘটনা সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই স্তম্ভিত শহর কলকাতা। জানা গিয়েছে কলকাতার আমর্হাস্ট স্ট্রিটের একটি আবাসনে থাকতেন মৃত ব্যক্তি ও পরিবার। সোমবার দুপুর তিনটায় মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তিরমৃত্যুর পরপরই পরিবারের তরফে স্থানীয় প্রশাসন, বিধায়ক, এমনকি স্বাস্থ্যভবনের সাথেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই কোনো ফল হয়না। এরপর পরিবারের তরফে মৃতদেহটি বাড়ির ফ্রিজারে রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ৪৪ ঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ার পরও প্রশাসনের তরফে কোনো তৎপরতা দেখানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পাশাপাশি কলকাতার সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের গাফিলতির জেরে টানা ৪৬ ঘন্টা একজন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃতদেহ এভাবে বাড়িতে ফেলে রাখায় স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি এর জেরে আবাসনের অন্যান্যদের মধ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, গত দু’দিনধরেই ওই ব্যক্তির শরীরে জ্বর-শ্বাসকষ্ট সহ করোনার উপসর্গ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এরপর সোমবার দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর দুপুর ৩টে নাগাদ বাড়িতেই মারা যান ওই বৃদ্ধ। এরপরই পরিবারের তরফে চিকিৎসককে বাড়িতেই ডেকে আনা হয়। রোগীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ওই চিকিৎসক পিপিই পড়ে ওই বাড়িতে আসেন এবং মৃত বৃদ্ধ করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে একটি বেসরকারি ল্যাবে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রিপোর্টের জন্য পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। মঙ্গলবার সকালে জানা যায় মৃত ব্যক্তি করোনা পজিটিভ ছিলেন।

বিষয়টি জানার পর থেকে আতঙ্কে দেহটি সংরক্ষণের জন্য পরিবারের তরফে থানা, কলকাতা পুরসভা সহ একাধিক জায়গায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি স্বাস্থ্যভবনেও ফোন করা হয়৷ কিন্তু কোনো জায়গা থেকেই সাহায্য মেলেনি। এভাবে টানা ২৪ ঘন্টা করোনা আক্রান্ত মৃতদেহ ঘরের মধ্যে পড়ে থাকায় দেহতে পচন ধরতে শুরু করে। এরপর মঙ্গলবার সকালে কোনোরকমে একটি ফ্রিজ জোগাড় করে তাতে মৃতদেহটি রাখা হয়। এবিষয়ে মৃতের আত্মীয় বলেন, “মৃত্যুর পর আমরা থানায় যাই। তারা বলেন স্বাস্থ্য ভবন এ যোগাযোগ করুন । স্বাস্থ্য ভবনের হেল্পলাইনে ফোন করে আমরা ফোন পাইনি। হেল্পলাইন নম্বর বেজেই গেল। রাত নটা পর্যন্ত কিছু করতে না পেরে দেহটি সংরক্ষণ করার চেষ্টা করি। চিকিৎসক সেইমতো লিখেও দেন। কিন্তু কোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এই দেহ নিতে চায়নি।”

ঘটনায় মৃতের পরিবারের অভিযোগ, পজিটিভ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর স্বাস্থ্য ভবনে বারংবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু কেউ ফোন ধরেনি। সোমবার বিকেল থেকে টানা ২ দিন যোগাযোগ করার চেষ্টা করার পর গোটা রাজ্য যখন কার্যত ঘটনার কথা জেনে গিয়েছে তখনও তাদের কানে এত বড় খবর গিয়ে পৌঁছায়নি। এরপর অবশেষে বুধবার দুপুরে ওই পরিবারের তরফে স্বাস্থ্য ভবনের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসেন কলকাতা পুরসভা। ঘটনায় মৃতের ছেলে বলেন, “বাবার মৃতদেহ দুদিন ধরে চোখের সামনে বাড়িতেই রয়েছে। যন্ত্রণাটা বোঝার চেষ্টা করুন। অসহায় লাগছে। কি করবো বুঝতে পারছিনা। পরিবার ও প্রতিবেশী সকলের সুরক্ষার বিষয় রয়েছে। নিজেদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের নিয়েও চিন্তিত আমরা। বাবার মৃত্যুর যন্ত্রণা ভিতরেই রয়েছে। তার থেকেও বেশী যন্ত্রণা মৃত্যুর পরও টানা দু’দিন তাকে চোখের সামনে দেখতে হচ্ছে। বাবার মৃত্যুর পর এমন অভিজ্ঞতা হবে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি।”

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join