TRENDS

করোনা মৃতদেহ সৎকারে বেসরকারি হাসপাতালে ‘প্যাকেজ’ চালুর অনুমতি কলকাতা পুরসভার

Abhirup Maity

ওয়েব ডেস্ক : শনিবারই নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অযথা চিন্তিত হতে নিষেধ করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। বাংলার পরিস্থিতি অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এখনও পর্যন্ত অনেকটাই ভালো, একথাও বলেন তিনি৷ যদিও মুখ্যসচিবের দাবিতে একমত হতে পারেননি অনেকেই। এ তো গেল প্রশাসনের দাবি৷ কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বলছেন অন্য কথা। রাজ্যের করোনা পরিকাঠামো যে কতখানি পলকা তা রবিবার ফের প্রকাশ্যে চলে এল। জানা গিয়েছে, বেসরকারি হাসপাতালে করোনায় মৃতদের দেহ সৎকার করতে হচ্ছে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে। তাও আবার ৫,০০০ – ৭,০০০ টাকার প্যাকেজের বিনিময়ে৷ শুধু তাই নয়, হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রেও রয়েছে মোটা অঙ্কের প্যাকেজ।

সূত্রের খবর, বর্তমানে কলকাতায় বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে করোনায় মৃত্যু হলে সেক্ষেত্রে দেহ সৎকারের জন্য বেসরকারি সংস্থাকে অনুমতি দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। গত ৪ জুলাই থেকে ইতিমধ্যেই ২টি সংস্থা কাজ শুরু করছ। তবে সরকারি তত্ত্বাবধানে মৃতদেহ সৎকার বিনামূল্যে হলেও এক্ষেত্রে কিন্তু তা নয়। দেহ পিছু ৭,০০০ -৮,০০০ টাকা করে দাবি করা হচ্ছে৷ এবিষয়ে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, করোনায় মৃতদের দেহ তাদের হেফাজতে থাকলেও তা সৎকার করার বা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অধিকার রয়েছে একমাত্র কলকাতা পুরসভার কাছে।

এইমূহুর্তে শহরে প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে শুধুমাত্র করোনাতেই প্রায় ১৫-১৭ জনের মৃত্যু হচ্ছে। এদিকে চুল্লিও একটাই। এর জেরে সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে ব্যাপক চাপ পড়ছে কলকাতা পুরসভার কর্মীদের। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে সৎকার করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এবিষয়ে মৃতদেহ সৎকারের বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভার অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন তাঁরা। একটি দেহ সৎকার করতে ৩ জন লোক লাগে। তাছাড়া গাড়ি সহ অন্যান্য খরচ রয়েছে। সেকারণেই দেহ পিছু ৭-৮ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। প্রথমে বেসরকারি হাসাপাতালের মোটা অঙ্কের বিল, তার ওপর পরিজন মারা যাওয়ার পর তাকে সৎকারের জন্যও ফের মোটা টাকা দিতে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি সাধারণের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

এদিকে রাজ্য সরকার যতই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করুক, আদতে যে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছে তা মেনে নিয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর এক সদস্য। তিনি জানিয়েছেন, পুরসভা দিনে সর্বোচ্চ যতগুলো দেহ সৎকার করতে পারে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে তার দ্বিগুন হয়ে গিয়েছে। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বেসরকারি সৎকার সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নইলে রোগীর মৃত্যু হলে সরাসরি গাড়ি করে ধাপায় দেহ পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে। ফলে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি এই মূহুর্তে কি অবস্থায় রয়েছে স্বাভাবিকভাবেই তা বোঝা যাচ্ছে।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join