TRENDS

ভরসা কোথায় আ্যন্টিজেনে! নেগেটিভ হয়েও পজিটিভ জহর পাল, টানা ৫দিন সংক্রমনের কবলে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: আ্যন্টিজেন পরীক্ষা করা হয়েছে কিন্তু নেগেটিভ অথচ সংক্রমন বেড়েই চলেছে। রবিবার থেকে বুধবার, চারদিনে আ্যন্টিজেন পরীক্ষার ফলে ভরসা করেই খড়গপুরের প্রবীন তৃনমূল নেতা যখন নিশ্চিন্ত তখন করোনায় ভর করে নিউমোনিয়া তাঁর ফুসফুসের দখল নিয়ে ফেলেছে আর বৃহস্পতিবার ট্রুন্যাট পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে করোনা সংক্রমন চূড়ান্ত জায়গায়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে যে আ্যন্টিজেন পরীক্ষার ভরসায় নেগেটিভ হয়ে মানুষ হাট খোলা হয়ে ঘুরছেন তা আদতে তাঁর নিজের এবং অপরের জন্য কতটা নির্ভরযোগ্য!

ষাটোর্দ্ধ এই বরিষ্ঠ নেতা জহর পালের ছেলে খড়গপুর শহর যুব তৃনমূল সভাপতি অসিত পাল জানিয়েছেন, ” আমরা বিভ্রান্তির শিকার হয়ে গেলাম প্রথম দিনেই, যেদিনটা ছিল রবিবার। বাবার একটু সমস্যা শুরু হয়েছিল আগেই। ঠান্ডা লেগেছিল, অল্প স্বল্প কাশি হচ্ছিল আর খুবই সামান্য জ্বর। সেটা বাবাকে সামান্য বেগ দিচ্ছিল কিন্তু বাবা গ্রাহ্য করছিলেননা। রবিবার বাবার আ্যন্টিজেন পরীক্ষা করালাম আমরা যার ফল নেগেটিভ এল। বাবা নিশ্চিন্ত হয়ে গেলেন এবং আরও বেপরোয়া হয়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিলেন। রবিবার এবং সোমবার সমস্ত কর্মসূচিতে ছিলেন।”

যুব নেতা বলেন, ” মঙ্গলবার সমস্যা বাড়ল। যেহেতু করোনায় নেগেটিভ তাই ওদিকটা খেয়াল না করে আমরা বাবাকে একজন ফিজিসিয়ান দেখলাম। ওনার বুকের এক্স-রে করা হল, দেখা গেল ফুসফুসে নিউমোনিয়া সংক্রমন হয়েছে। চিকিৎসা শুরু হল কিন্তু তেমন লাভ হচ্ছিলনা। বৃহস্পতিবার বাবার অবস্থা একটু খারাপ হতে শুরু করলে আমরা বাবাকে ফের আরেকজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলাম। উনি বললেন, ‘আ্যন্টিজেন রিপোর্টে ভরসা করা যাবেনা, আরটি/পিসিআর করাতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে আরটি/পিসিআরের নমুনা দেওয়া হল যার ফলাফল শুক্রবার রাতের আগে পাওয়া যাবেনা। কিন্তু ওদিকে বাবার শরীর আরও খারাপ হতে শুরু করেছে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা নামছে, সুগার কমতে শুরু করেছে হু হু করে।”

অসিত জানালেন, “এবার চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলেন আরটি/পিসিআরের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা যাবেনা। ট্রুন্যাট পরীক্ষা করাতে হবে যাতে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়। সেই ট্রুন্যাট ফল এল ৪ঘন্টা পর এবং দেখা গেল বাবা পজিটিভ। ততক্ষনে বাবার সুগার ৪ বার ফল করেছে আর অক্সিজেন নেমে গেছে ৮৬তে। এরপরই আমরা তড়িঘড়ি বাবাকে নিয়ে কলকাতার দিকে রওনা দিই।”
জানা গেছে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিশেষ তৎপরতায় কলকাতার একটি নামী ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে শয্যার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। রাতেই ওই হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে নেওয়া হয় জহর পালকে। চিকিৎসকদের রাতভর পর্যবেক্ষনের পর শুক্রবার বেলার দিকে আইসিইউ থেকে সরিয়ে তাঁকে সাধারন শয্যায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং তিনি ভাল আছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবারের সদস্যরা। যদিও টানা ৫দিন সংক্রমনে থাকার ফলে তাঁর ফুসফুস যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে তাই আপাতত আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষনে থাকতে হবে তাঁকে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আ্যন্টিজেন পরীক্ষায় কেউ পজেটিভ হলেই তাঁকে পজিটিভ বলেই ধরে নেওয়া হয় কিন্তু কেউ নেগেটিভ হলে তাকে নেগেটিভ বলা যায়না। নেগেটিভ নিশ্চিত করার জন্য দরকার আরটি/পিসিআর অথবা ট্রুন্যাট পরীক্ষা যদিও আরটি/পিসিআরই একমাত্র নির্ভর যোগ্য গোল্ডেন স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষা। তাহলে প্রশ্ন উঠছে এখন গ্রামে গ্রামে যে আ্যন্টিজেন পরীক্ষা হচ্ছে তার বিপদের দিকটা তো মারাত্মক। যিনি পজিটিভ চিহ্নিত হচ্ছেন তিনি না হয় চিকিৎসা পেলেন কিন্তু যিনি নেগেটিভ চিহ্নিত হয়েও পজেটিভ হয়ে থেকে গেলেন তিনি নিজে এবং তাঁর কাছে থাকা মানুষেরাও তো বিপদের কাছাকাছি থেকে যাচ্ছেন। চিকিৎসকরা অবশ্য বলছেন, আ্যন্টিজেন শুধুমাত্র উপসর্গহীন বা স্বল্প উপসর্গদের মধ্যে পজিটিভ খোঁজার চেষ্টা মাত্র। সন্দেহ হলেই আরটি/পিসিআর করিয়ে নিতেই হবে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join