TRENDS

Kharagpur-Midnapur:উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করানোর প্রতিবাদে অবরোধ, আগুন খড়গপুরে! মেদিনীপুরে আত্মহত্যার হুমকি

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: শুক্রবার খড়গপুর শহরের সিলভার জুবিলী হাইস্কুলে রাত অবধি বিক্ষোভ অবরোধ চলার পর শনিবার দিনভর ছাত্রবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল খড়গপুর শহর। বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে মেদিনীপুর শহরেও। শনিবার বড়সড় বিক্ষোভের ঘটনাটি ঘটেছে খড়গপুরের ইন্দার কৃষ্ণলাল শিক্ষা নিকেতন উচ্চমাধ্যমিক বা ইন্দা বয়েজ স্কুলে। স্কুল কম নম্বর দেওয়ায় তাদের ফেল করানো হয়েছে এই দাবি করে স্কুলে একপ্রকার তাণ্ডব চালালো পড়ুয়ারা। তান্ডবের জেরে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রথমে চিৎকার চেঁচামেচি করার পর হঠাৎই স্কুলের ভিতর থেকে আসবাবপত্র বাইরে এনে নির্বিচারে ভাঙচুর চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেয় পড়ুয়ারা। সেই সঙ্গে চলে ব্যাপক ভাঙচুর।

পড়ুয়াদের দাবি কম নম্বর দিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে ফেল করিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ এই দাবি সত্য নয় বলেই জানিয়েছে। মূল রাস্তার ওপর স্কুলের গেটের সামনে এই ঘটনা ঘটায় রাস্তা জুড়ে ভিড় জমে যায়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পথচারীরা থমকে যায় ফলে ভিড় জমে যায় এলাকায়। এলাকায় ভিড় উপচে পড়ে। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে আশঙ্কা করে পুলিশে খবর দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্কুলের সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে থানায় অভিযোগ জানাতে পারে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে খড়গপুর শহরের নিমপুরাতে আর্য বিদ্যাপীঠের পড়ুয়ারা এবং কৌশল্যার সিলভার জুবিলী উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের পড়ুয়ারা শহরের দুটি প্রধান রাস্তা অবরোধ করার ফলে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায় বেশ কিছুক্ষনের জন্য। আর্য বিদ্যাপীঠের পড়ুয়ারা খরিদা- মালঞ্চর মূল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। অন্যদিক সিলভার জুবিলীর পড়ুয়ারা অবরোধ করে কৌশল্যা-পুরাতনবাজার যাওয়ার সড়ক। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। খড়গপুর শহরের অন্যান্য স্কুলগুলিও এই ঘটনার জেরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিশেষ করে ইন্দা স্কুলের ঘটনার পর সোমবার থেকে আরও সমস্যা বাড়তে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বহু স্কুল।

অন্যদিকে মেদিনীপুর শহরে বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠে পড়ুয়াদের সাথে বেশকিছু অভিভাবককেও বিক্ষোভে সামিল হতে দেখা গিয়েছে। এখানে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি পড়ুয়ারা হুমকি দিয়েছে তাদের পাশ না করালে তারা আত্মহত্যা করবে। বহু স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতেই গলদ আছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বেশকিছু স্কুল স্বীকার করে নিয়েছে তাদের হাতে যে নম্বর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত নম্বর দেওয়ার পরও পড়ুয়ারা পাশ করতে পারেনি। জানা গেছে কেন এত পড়ুয়া ফেল করল তা জানতে চেয়ে ইতিমধ্যেই সংসদের কাছে জবাবদিহি করেছে শিক্ষা দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং সংসদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join