TRENDS

খড়গপুরের মর্গে দাদার হাত থেকেই শশ্মানে যাওয়ার গেটপাশ নেবে দীপক

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: মরনা কাঁহি পে হো আউর ক্যায়সা ভি হো লেকিন কবর ঔর শনশান যানে কা গেটপাশ তুমহে এঁহিসে আউর মেরে হাত সেহি লেনে পড়েগা (যেখানেই মর আর যেমন করেই মর, শ্মশান বা কবরে যাওয়ার ছাড়পত্র এখান থেকে আর আমার হাত থেকেই নিতে হবে।) খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে দাঁড়িয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হওয়া মানুষদের পরিবারকে এভাবেই বলতেন দীপক নায়েক। মর্গের সামনে শান বাঁধানো গাছের তলায় বসে লাশ নিতে আসা পরিবারের লোকেদের কাগজপত্র খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার পর, দার্শনিক হয়ে যাওয়া দীপকের এই ডায়লগ অনেকেই শুনে থাকবেন।

কথাটা খুব একটা মিথ্যে নয়, গাড়ি চাপা, বিষ খাওয়া, গলায় দড়ি, জলে ডোবা, বাজ পড়া, সাপে কাটা সব অপঘাতে মৃত্যুরই শশ্মান কিংবা কবরের আগের ঠিকানা মর্গ। আর খড়গপুর মহকুমার ১০টি থানা এলাকার তাবৎ অপঘাতে মৃত্যুর ঠিকানা এই খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গ। সুতরাং দীপক নায়েক যা বলত তা খুব একটা ফেলে দেওয়ার নয় কিন্তু দীপকের নিজেরও শশ্মানে যাওয়ার গেটপাশও যে এখান থেকেই নিতে হবে তা কি সে নিজে জানত?

শনিবার সকালেই খড়গপুর শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরে ৬০নম্বর বালেশ্বর রানীগঞ্জ জাতীয় সড়কের ওপর মকরামপুর লাগোয়া টোলপ্লাজার কাছেই মৃত্যু হয়েছে বছর চল্লিশের দীপকের। জায়াগটা খড়গপুর গ্রামীন থানার অন্তর্গত খড়িগেড়িয়া। গ্রামীন পুলিশ জানিয়েছে, বড় একটি লরি খড়গপুরের দিকে উল্টো লেন ধরে আসছিল এই সময় দীপক বিপরীত দিক থেকে বাইকে যাচ্ছিল। সরাসরি সংঘাত হয়, বাইক সমেত দীপক ঢুকে যায় লরির ভেতরে।

দীপকের মাথায় হেলমেট ছিলনা, থাকলেও কী হত বলা মুশকিল কারন। মাথা পিষে দিয়েছিল লরি। দীপক কেন খড়গপুর শহর থেকে অতদুরে গেছিল তার ব্যাখ্যা পায়নি পুলিশ। শনিবার বিকালে বাইক আর লরি আটক করার পর সন্ধ্যায় খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে লাশ ঢুকে গেছে দীপকের। সেই মর্গ যেখান থেকে অন্যদের শশ্মান আর কবরের গেটপাশ দিত দীপক।

খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী বলেছেন, “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। দীপক আমাদের স্থায়ী কর্মী ছিলনা ঠিকই কিন্তু বহুদিন ধরেই মর্গের কাজে সাহায্য করত।” দীপকের দাদা গৌতম নায়েকও খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গের অস্থায়ী কর্মী। মর্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডোম অবসর নেওয়ার পর পুনরায় বহাল হয়েছে তাকেই সাহায্য করে গৌতম। বছর তিরিশ ধরে সে রয়েছে।

গৌতমই দীপককে বহাল করেছিল সহকারী হিসাবে। এভাবেই চলে এদের। রবিবার দীপকের ময়নাতদন্ত হবে। ময়নাতদন্ত করবেন চিকিৎসক সঙ্গে সহকারী হিসাবে গৌতমেরই থাকার কথা। ভাইয়ের গেটপাশ দিতে হবে তাকেই, শশ্মানের যাওয়ার গেটপাশ।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join