TRENDS

বিকাল ৪টাতেই রাতের অন্ধকারে মুখ ঢাকল খড়গপুর মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম বেলদা, ঝড় বৃষ্টিতে তছনছ সবজি ও ধানের ক্ষেত

Abhirup Maity

নিজস্ব সংবাদদাতা: আবহাওয়া দপ্তরের ঘোষনা মত আশংকা ছিলই আর সেই আশংকাকে সত্যি করে আকাশ ভেঙে পড়ল খড়গপুর মেদিনীপুর সহ গোটা দক্ষিনবঙ্গের মাথায়। বৃহস্পতিবার দুপুর দুটো থেকেই মেঘ জমতে শুরু করেছিল পশ্চিম মেদিনীপুর, পুর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের মাথার ওপর। সাড়ে তিনটা নাগাদ সেই মেঘ আরও ঘন হয়ে জমাট বাঁধে আর পৌনে চারটা নাগাদ শুরু হয় তীব্র ঝড়ের সাথে বৃষ্টির ঝাপট। চারটার সময় কার্যত রাত আটটার অন্ধকার গ্রাস করে নেয় খড়গপুর শহর ও গ্রামীন, মেদিনীপুর, বেলদা, পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা এবং ঝাড়গ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ অংশকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এমন ভয়ংকর যা কিনা অমাবস্যার রাতকে হার মানিয়েছিল। প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী হয় ওই ঘন অন্ধকার সঙ্গে তীব্র বজ্র ঝলকানি। এরই মধ্যে বহু জায়গায় বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সমস্যা আরও প্রকট হয়।বিকাল ৪টাতেই রাতের অন্ধকারে মুখ ঢাকল খড়গপুর মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম বেলদা, ঝড় বৃষ্টিতে তছনছ সবজি ও ধানের ক্ষেত
খড়গপুর শহরের এক ৭৫বছর বয়সী অবসর প্রাপ্ত রেল কর্মী প্রেমবাজার এলাকার বাসিন্দা দুলাল দাস জানিয়েছেন, ”দিনের বেলায় একবার অন্ধকার দেখেছিলাম বছর ত্রিশ আগে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহনের সময়, পাখির দল ভয় পেয়ে কিচির মিচির শুরু করেছিল কিন্তু আজকের অন্ধকার তাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ঘরের বাইরে ভেতরে কোনও কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।”
একই অভিজ্ঞতা মেদিনীপুর শহরবাসীর। ঘন অন্ধকারের গ্রাসে বেশকিছুক্ষনের জন্য চলে যায় পুরো শহর। ওদিকে তীব্র ঝড়ের দাপটে খড়গপুর গ্রামীন সহ বেলদা, নারায়নগড়, সবং, পিংলা এলাকার বোরো চাষের পাকা ধানের জমি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। লকডাউন শিথিল হওয়ার পর কোথাও ধান কাটার কাজ শুরু হয়েছিল। মাঠে নেমেছিল ধান কাটার মেশিন সহ গাড়ি। বন্ধ করে দিতে হয় সেই কাজ। অন্যদিকে ঝাড়গ্রামের কংসাবতী, সুবর্ণরেখা , ডুলুং ইত্যাদি নদী সংলগ্ন পলি ললিত সবজির ক্ষেতের দফারফা হয়ে গেছে। শশা, তরমুজ, উচ্ছে, ঝিঙে ইত্যাদি সবজির ক্ষেত এলোমেলো হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
গত মঙ্গলবারই কালবৈশাখীর তীব্র দাপট দেখেছিল দক্ষিনবঙ্গ। বৃহস্পতিবার তারই সাথে যোগ দিয়েছিল স্থানীয় ভাবে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত। পাশাপাশি এই অঞ্চলে একটি গভীর নিম্নচাপ এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এদিন বিকাল ৫টার পর পুরোপুরি আকাশ ফাঁকা হয়ে গিয়ে ফের আলো দেখা দিয়েছে বটে কিন্তু ঝড়বৃষ্টির রাহুগ্রাস থেকে এখুনি মুক্তি পাওয়ার সম্ভবনা আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পাঁজিতে এখনও লেখা হয়নি বলেই জানা গেছে।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join