TRENDS

বুড়ো ঘোড়ায় চড়তে রাজি নয় খড়গপুর কংগ্রেস! নিজেদের অফিসেই ভাঙচুর চালালো কর্মীরা

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: নজিরবিহীন ঘটনার স্বাক্ষী রইল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর শহর। খোদ নিজেদের অফিসেই ভাঙচুর চালালো কংগ্রেস কর্মীরা। শনিবার রাতে খড়গপুর শহরের গোলবাজারে অবস্থিত খড়গপুর টাউন কংগ্রেস বা চাচা জ্ঞান সিং সোহনপালের অফিস বলে যা পরিচিত সেই অফিসে নির্বিচার ভাঙচুর চালালেন কংগ্রেস কর্মীরা নিজেরাই। শুধু তাই নয়, রবিবার খড়গপুর শহরের ঘোষিত প্রার্থী কংগ্রেসের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি যদি খড়গপুর শহরে আসেন তবে তাঁকেও বড়সড় জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্রুদ্ধ খড়গপুর শহরের কংগ্রেস কর্মীরা।

উল্লেখ্য এই বিধানসভায় বাম কংগ্রেস সংযুক্ত মোর্চার জোটের পক্ষ থেকে বরাবরের মতই খড়গপুর শহর আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শহর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই আসনে এবার রিতা শর্মা অথবা উদয় সিং এই দুটি নাম পাঠানো হয়েছিল জেলা ও প্রদেশ কমিটির কাছে যা শেষ অবধি চুড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা প্রদেশ কংগ্রেসের।

এদিন দুপুর থেকেই শহরের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন কংগ্রেস কর্মীরা। সন্ধ্যেরও বেশ কিছুটা পরে জানা যায় ওই দুটি নামকে বাদ দিয়ে জেলা সভাপতি মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা সমীর রায়ের নাম খড়গপুর শহরের জন্য চূড়ান্ত করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। এই খবর জানার পরই কার্যত শশ্মানের নিস্তব্ধতা নেমে আসে গোলবাজারের কংগ্রেস কার্যালয়ে।

শহর সভাপতি অমল দাস সহ সমস্ত নেতৃত্ব চুপচাপ হয়ে যান। নিজেদের মধ্যেই আলাপ আলোচনা করছিলেন জেলা সভাপতির এই কান্ড দেখে।
ইতিমধ্যেই শহরে খবর রটে যায় যে শহরের কেউ নয় প্রার্থী হচ্ছেন ৭৫ পেরুনো অশক্ত বৃদ্ধ সমীর রায়। খবর পেয়েই পার্টি অফিসে ছুটে আসেন বেশ কয়েকজন পার্টি কর্মী, সমর্থক। প্রথমে জেলা সভাপতির প্রার্থী হওয়ার ‘লোভ’ ‘লালসা’কে কটাক্ষ করে চলতে থাকে বিক্ষোভ, শ্লোগান, সাউটিং।

কিছুক্ষন এই অবস্থা চলার পরই ধিরে ধিরে ক্রোধের আগুন বাড়তে থাকে। এরপরই শুরু হয় ভাঙচুর। অফিসের চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ, আসবাবপত্র নির্বিচারে আছড়ে ফেলা হয়, উল্টে দেওয়া হয়। রীতিমত তান্ডব শুরু হয়ে যায়। অমল দাস কয়েকজন সেই তান্ডব থামাতে চেষ্টা করেও সফল হয়নি।

উত্তেজিত কর্মীরা জানান, হয়ত তাঁরা বিধানসভায় হেরেই যাবেন কিন্তু এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁরা তাঁদের শক্তিকে সংহত করা এবং খড়গপুর পৌরসভার জন্য নিজেদেরকে তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু অন্য শহর থেকে প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার ফলে এই লড়াইয়ে কর্মীরা তাঁদের মনোবল হারিয়ে ফেলছেন বলেই দাবি অনেকের। তাঁদের দাবি যখন শহরেই যোগ্য প্রার্থী রয়েছে তখন কেন বাইরে থেকে প্রার্থী হয়ে আসবেন অন্য আরেকজন? কর্মীরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে বহিরাগত প্রার্থী তাঁরা মানবেননা।

কর্মীরা এও জানিয়ে দেন সমীর রায় জেলা সভাপতি, তাঁকে সভাপতি হিসাবে মর্যাদা দেবেন তাঁরা কিন্তু প্রার্থী হিসেবে কোনও মতেই মেনে নেবেন না। কর্মীদের পরিষ্কার হুঁশিয়ারি, প্রদেশ কংগ্রেস যদি খড়গপুর শহরের প্রার্থীপদ পরিবর্তন করে ভালো কথা নাহলে সমীর রায় শহরে প্রার্থী হিসেবে প্রচার করতে আসে তবে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে যাবে।

গোটা ঘটনায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলি বিশেষ করে সিপিএম আর সিপিআই। প্রচারে কংগ্রেসের চেয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা ছকে তৈরি তারা। দেওয়ালে হাত এঁকে নাম লেখার জন্য তৈরি তারা, তৈরি প্রার্থী কে নিয়ে কোথায় কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে তারা ছকও। কিন্তু কে প্রার্থী হবে আর কী তাঁর নাম?

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join