TRENDS

খড়গপুর হাসপাতালে ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন আহত, জায়গা নেই হাসপাতালে

Abhirup Maity
খড়গপুর হাসপাতালে ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন আহত, জায়গা নেই হাসপাতালে
এভাবেই পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা 

নিজস্ব সংবাদদাতা: সকাল থেকে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে মানুষটি। বাঁ পায়ের গোড়ালি সহ পচে দগদগে ঘা, ভনভন করছে মাছি। অসম্ভব যন্ত্রনাই বোধহয় বাস্তবের মাটিতে ফিরিয়ে এনেছে মানুষটিকে যদিও বাস্তবতা বলতে শুধুই যন্ত্রনা বোধ টুকুই। বাদ বাকি একই রকম, মাছি তাড়ানোর বোধ বুদ্ধি নেই, কাউকে ডেকে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা নেই, একেবারেই মানসিক ভারসাম্যহীন, সাধারনের ভাষায়, পাগল।


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সোমবার এমনই এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে দেখা খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের গেল পা জুড়ে দগদগে ক্ষত নিয়ে পড়ে থাকতে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেই সাইকেল স্ট্যান্ডের মধ্যেই পড়ে থাকতে দেখা যায় এই মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিটিকে যাকে ঘিরে একটি মানবিক প্রশ্ন উঠে গেছে যে এই ধরনের রুগীর চিকিৎসার জায়গা কোথায়?


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ঘন্টার পর ঘন্টা রুগীকে পড়ে থাকতে দেখেও টনক নড়েনি হাসপাতাল কর্মীদের। টনক নড়েনি হাসপাতালের মধ্যে থাকা অন্য রুগীদের আত্মীয় স্মজনদেরও। কারও একবারও মনে হয়নি মানুষটির চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের মধ্যে বিশেষ কাজে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিকদের তৎপরতায় শেষ অবধি ছুটে আসেন হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী। তাঁর উদ্যোগ ট্রলি আনিয়ে আহতকে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। কিন্তু তিনি তাঁর অসহায়তা ব্যক্ত করে একটি প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন যে, এই ধরনের রুগী রাখার মত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো হাসপাতালে নেই। প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুই হতে পারে কিন্তু তারপর?


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সুপার বলেন, ‘এই ধরনের রুগীরা যেহেতু নিজেদের সম্পর্কে সচেতন নন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অক্ষম তাই সাধারণ ওয়ার্ডে এঁদের রাখা যাবেনা, অন্য রুগীরা আপত্তি করবেন আবার এঁদের জন্য কোনও পৃথক ওয়ার্ড নেই, ওয়ার্ড তৈরির কোনও পরিকল্পনাও নেই। তা’হলে এঁকে কোথায় রাখব?’


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
হাসপাতাল সূত্রে এও জানানো হয়েছে প্রথম দিকে এই ধরনের রুগীদের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হত কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে বিরক্ত হত এবং পরবর্তী কালে হুমকির স্বরে জানিয়ে দিয়েছে এই ধরনের রুগী স্থানান্তরিত করলে যে রুগী নিয়ে আসবে তার বিরুদ্ধে পুলিশে আভিযোগ জানানো হবে। এরপর থেকেই এই ধরনের মানসিক ভারসাম্যহীন আহত রুগীদের কার্যত চিকিৎসাই করা হয়না। প্রশ্ন এখন একটাই কী হবে এঁদের? 

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join