TRENDS

লকডাউন ভেঙেই বীরভূমে গুলির লড়াই , করোনা আতঙ্কের অনুব্রতের গড়ে মাঝেই গুলিতে মৃত এক, আহত ১

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: সারা বিশ্ব , দেশ, সারা রাজ্য যখন করোনায় তটস্থ তখন অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে স্বমহিমায় বিরাজ করছে গোষ্টিদ্বন্দ্ব, বোমা, বন্দুক আর গুলির লড়াই। লড়াইয়ের জন্য শুধু অজুহাত চাই আর এবার কোয়ারেন্টাইনকেই অজুহাত বানিয়ে গুলির লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের স্কুলে কোয়রান্টিন সেন্টার গড়তে গিয়েছিল প্রশাসন। সেই নিয়ে দু’ভাগ হয়ে যান গ্রামবাসীরা। বচসা থেকে শুরু হয় বোমা-গুলির লড়াই।

সেই লড়াইয়ের মাঝখানে পড়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে বীরভূমের পাড়ুই থানার তালিবপুর গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম শেখ শ্যামবাবু (৪৫)। আরও এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। লকডাউনের মধ্যেই এই গুলির লড়াইয়ে তটস্থ পুরো গ্রাম । স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, বীরভূমের দুশোরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোয়রান্টিন কেন্দ্র গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনা-সংক্রমণ দ্রুত ছড়ালে যাতে রোগীদের আলাদা রাখা যায়, সে জন্যই এমন ভাবনা বলে প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি।

সেই সূত্রেই সিউড়ি ২ ব্লকের বনশঙ্কা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত তালিবপুর গ্রামের হাইস্কুলে কোয়রান্টিন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ ব্যাপারে এ দিন সন্ধ্যায় পঞ্চায়েত প্রধান মরিরাম দাস এবং পাড়ুই থানার পুলিশ আধিকারিকেরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রথম থেকেই গ্রামবাসীর একাংশের কোয়রান্টিন কেন্দ্রে আপত্তি ছিল। তাঁদের আরও ভাবনাচিন্তা করার পরামর্শ দিয়ে আধিকারিকেরা গ্রাম ছাড়েন।

সূত্রের খবর, পুলিশ চলে যেতেই আপত্তি তোলা গ্রামবাসীদের সঙ্গে তুমুল বিবাদ বাধে কোয়রান্টিন কেন্দ্রের পক্ষে সায় দেওয়াদের। সেই থেকেই শুরু হয় বোমা-গুলির লড়াই। সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে মারা যান শ্যামবাবু। খবর পেয়ে গ্রামে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তার মধ্যেই খুনে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন লাগানো হয় বলে অভিযোগ। পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, ‘‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ-প্রশাসন বিষয়টি দেখছে।’’ এলাকায় তীব্র উত্তেজনা রয়েছে। গ্রাম জুড়ে চলছে পুলিশি টহল।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join