TRENDS

পরিবহন সংকটে জিইই পরীক্ষার্থীরা, রাস্তায় চলছে হাতেগোনা বাস, নাজেহাল পরীক্ষার্থীরা

Abhirup Maity

ওয়েব ডেস্ক : দীর্ঘ জল্পনার পর অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে মঙ্গলবার গোটা দেশে চলছে জিইইর মেন পরীক্ষা। সে অনুযায়ী করোনা আবহে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যাতে কোনোভাবেই সংক্রমণ না ছড়ায়, সে কথা মাথায় রেখে রাজ্যের তরফে নির্দিষ্ট করোনা বিধি মেনে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যাতে রাস্তাঘাটে অসুবিধার মধ্যে না পড়তে হয় সেকারণে মঙ্গলবার রাস্তায় অতিরিক্ত সরকারি-বেসরকারি বাস রাস্তায় নামানোর ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সকাল হতেই অন্য ছবি ধরা পড়লো জেলা গুলিতে। রাস্তায় বাস প্রায় নেই বললেই চলে৷ এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই নাজেহাল পরীক্ষার্থীরা।

একই অবস্থা পূর্ব বর্ধমানে। সেখানে জেইই পরীক্ষা দুটি কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে ঢুকতে শুরু করেছে। করোনা আবহে সামাজিক দূরত্ব বিধি মানার জন্য গেটে ঢোকার মুখ থেকে চক দিয়ে গোল দাগ কাটা হয়েছে। একই সাথে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে পরীক্ষার্থীরা ঢোকার আগে থার্মাল ক্লিনিং করা হচ্ছে। প্রত্যেকটি কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন ৪ জন করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় কর্মীরা। পরীক্ষাকেন্দ্র গুলিতে একাধিক নিয়মবিধি মানলেও রাস্তায় বাস চলাচল একেবারেই হাতেগোনা। এমনকি করোনার কারণে বেশ কয়েকটি রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের আগে বেরিয়েও আদতে কোনও লাভই হয়নি। এদিকে বাস না থাকায় গাড়িগুলি গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েকগুন বেশি ভাড়া চাইছেন। ফলে অসুবিধার মধ্যে পড়েও অনেক পরীক্ষার্থীই সরকারি বা বেসরকারি বাসের উপর ভরসা না করে নিজেরাই গাড়ি ভাড়া করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর বন্দবস্ত করেছে। এবিষয়ে পূর্বস্থলীর এক পরীক্ষার্থী বলেন, ” কমসংখ্যক বাস চলছে। কিন্তু তার উপর ভরসা করলে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে সময় পেরিয়ে যাবে৷ তাই নিজেরা গাড়ি করে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছি।”

প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতিতে কিভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রার্থীদের বসানো হবে তা রবিবারই ঘোষণা করেছেন মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী। তিনি জানান, নিট পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিবছর প্রতিটি ক্লাসরুমে ২৪ জন করে প্রার্থী বসানো হলেও এবছর বসবে ১২ জন পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে জিইই এর ক্ষেত্রে মানা হবে জোড় বিজোড় নীতি।
প্রত্যেক পরীক্ষার্থীদের একটি করে সিট ছেড়ে বসতে হবে। যেহেতু জিইই পরীক্ষা কম্পিউটারে হয় সেক্ষেত্রে প্রতিটি কম্পিউটারের দূরত্ব কমপক্ষে ১ মিটার থাকবে। পাশাপাশি এই পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানা হবে জোড় বিজোড় নীতি। ফলে দুটি শিফট এ হবে পরীক্ষা। সকালের শিফট এ জোড় সংখ্যার পরীক্ষার্থীদের ও বিকেলের শিফট এ বিজোড় সংখ্যার পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হবে।

পাশাপাশি প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জলের বোতল নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে হবে। প্রবেশ পত্র ও অন্যান্য নথি সাথে রাখতে হবে। করতে পারবে পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার্থীদের চেক করার ক্ষেত্রে লম্বা হাতলযুক্ত মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করতে হবে। পরীক্ষা করার সময় খেয়াল রাখতে হবে কোনো ভাবেই যেন মেটাল ডিটেক্টর পরীক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শ না করে। তিন ফুটের একটি টেবলে না ছুঁয়ে পরীক্ষার্থীদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার্থীদের গ্লাভস পরে স্বাক্ষর করতে হবে।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join