TRENDS

অচিরাচরিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকৌশল আবিস্কার করে জাতীয় পুরস্কার জিতে নিলেন আইআইটি খড়গপুরের গবেষক অধ্যাপকরা

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: বছর খানেক ও হয়নি ভিজে কাপড় থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশল আবিস্কার করেছিলেন আইআইটি খড়গপুরের একদল গবেষক। গ্রামীন ভারতের জন্য বিকল্প শক্তির সেই সূত্র সম্ভবনাই জাতীয় পুরস্কার এনে দিল সেই গবেষক দলটিকে। আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন কেন্দ্র সরকার প্রদত্ত ২০২০বর্ষের জন্য ‘ গান্ধিয়ান ইয়ং টেকনোলজিকাল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’ এবার পেয়েছেন আইআইটি খড়গপুরের মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তিন অধ্যাপক গবেষক সুমন চক্রবর্তী, অধ্যাপক পার্থ সাহা এবং গবেষক আদিত্য বন্দোপাধ্যায় এবং ক্যামিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সুনান্দ দাশগুপ্ত তাঁর দল। অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী ও তাঁর দল যেমন ভেজা কাপড় থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকৌশল আবিষ্কার করেছেন তেমনই অধ্যাপক বন্দোপাধ্যায় ও তাঁর দল পুরস্কৃত হয়েছেন, স্মার্ট, নমনীয় এবং নেক্সট-জেনারেশন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসগুলির জন্য মাল্টি-ফাংশনাল তাপীয় এবং শক্তি ব্যবস্থাপনার জন্য।

এক ঝাঁক তরুন গবেষকদের নিয়ে কাজ করেছিলেন আইআইটির দুটি বিভাগ। সম্মান এসেছে সেই কাজে স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছসিত আইআইটি কর্তৃপক্ষ। দুই গবেষক দলের উদ্দেশ্য অভিনন্দন বার্তায় আইআইটির ডিরেক্টর অধ্যাপক বীরেন্দ্র তেওয়ারী বলেছেন , “আমাদের এখনও এমন সব ক্ষেত্র রয়েছে যা আমাদের দেশের বর্ধিত বিদ্যুতের চাহিদা কে পূরন করতে, নিরবিচ্ছিন্ন ও অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন শক্তির উৎস হতে পারে। এই শক্তি দেশের প্রান্তিক মানুষের জন্য এবং প্রান্তিক স্তরে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন। এই ধরনের বিদ্যুৎ আমাদের স্বয়ংক্রিয় জীবন যাত্রার উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হবে। আমাদের পুরস্কার প্রাপ্ত ওই দুটি গবেষক দল যে কাজ করেছেন তা দেশের প্রান্তিক ক্ষেত্রগুলির জনগোষ্ঠীর জীবন যাত্রার মানকে উন্নত ও প্রাঞ্জল করতে সাহায্য করবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।”

অধ্যাপক চক্রবর্তী বলেছেন “আমরা যে পোশাক ব্যবহার করে থাকি তার ভিত্তি হল সেলুলোজ ভিত্তিক কাপড়ের থান। এই থানের ভেতরে থাকে অতি সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম প্রকোষ্ঠ যাকে আমরা ন্যানো-চ্যানেলের নেটওয়ার্ক। এর মধ্যেই র লবণাক্ত জলের আয়নগুলি কৈশিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রক্রিয়াতে বৈদ্যুতিক সম্ভাবনাকে তৈরি করে। যা কাপড় শুকিয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে রাখে। আমরা আমাদের ডিভাইসটি ৩ হাজার বর্গমিটার পৃষ্ঠতল জুড়ে একটি প্রত্যন্ত গ্রামে পরীক্ষা করেছি। ওখানকার ধোপারা কাপড় কাচার পর তা শুকানোর জন্য প্রায় ৫০ টি কাপড়ের সামগ্রী রেখেছিলেন। আমরা সেই কাপড়গুলি একটি ক্যাপাসিটারের সাথে সংযুক্ত করি যা প্রায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১০ ভোল্টের বিদ্যুত সাশ্রয় করে। এই সঞ্চিত শক্তিতে ১ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে একটি সাদা এলইডি জ্বলতে যথেষ্ট। এভাবেই একটি গ্রামীন পরিবেশে স্বল্প ব্যয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব।” ইতিমধ্যে এই উদ্ভাবন পেটেন্ট পেয়ে গেছে। “ন্যানো লেটারস” নামে একটি বিশ্ব খ্যাত জার্নালে তা প্রকাশিত হয়েছে।

অধ্যাপক সুনন্দ দাশগুপ্তের নেতৃত্বাধীন এই দলটি পরিধেয় ও নমনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইসে শক্তি সংরক্ষণ ও তাপীয় পরিচালনার সমস্যা সমাধানের জন্য আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পার্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তারা গ্রাফিনে মিশ্রিত স্মার্ট উপকরণের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যবহার করে এটি অর্জন করছে। উপাদানগুলি একই সঞ্চয় করে এবং ডিভাইসগুলির শক্তি পরিচালনার দিকে তাপীয় শক্তিতে রূপান্তর করার সময় ব্যবহারকারীর বায়োমেকানিকাল শক্তিকে ফলন করে। প্রাথমিক প্রোটোটাইপগুলি উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী তীব্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে চলছে। এই দলটি বিদ্যমান কয়েকটি সিস্টেমের জন্য একীভূত তাপ এবং শক্তি পরিচালনার কৌশলগুলির পাশাপাশি ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিন ডিভাইসের দিকেও কাজ করছে, এটি গবেষকদের নিশ্চিত করেছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join