TRENDS

১১ঘণ্টার লড়াই শেষে মুক্ত ২৩ শিশু , পুলিশের গুলিতে মৃত বন্দুকবাজ, জনতার মারে মৃত তার স্ত্রী

Abhirup Maity
১১ঘণ্টার লড়াই শেষে মুক্ত ২৩ শিশু , পুলিশের গুলিতে মৃত বন্দুকবাজ, জনতার মারে মৃত তার স্ত্রী
ভেতরে বন্দুকের মুখে ২৩শিশু, বাইরে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও পুলিশ  

নিজস্ব সংবাদদাতা: ১১ঘণ্টা রুদ্ধাশ্বাস পুলিশি অ্যাকশনের পরে অভিযুক্তের কাছ থেকে মুক্ত করা গেছে ২৩ জন শিশুকে। অভিযুক্তও নিহত হয়েছে পুলিশের গুলিতে। কিন্তু রক্ষা পেলেন না অভিযুক্তের স্ত্রীও। জনরোষের মুখে পড়ে, গণপিটুনিতে মৃত্যু হল তাঁর! কিন্তু এই গোটা ঘটনায় অভিযুক্তের স্ত্রীয়ের আদৌ কোনও ভূমিকা ছিল কিনা, তা জানাই যায়নি। তদন্ত শুরু হয়েছিল সবে। কিন্তু উত্তেজিত জনতা সে সুযোগই রাখল না। ক্রুদ্ধ জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলল অভিযুক্তের স্ত্রীকেও ।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
বৃহস্পতিবার সেই রুদ্ধশ্বাস নাটকের স্বাক্ষী ছিল গোটা দেশ। উত্তরপ্রদেশের ফারুখাবাদে, মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের নাম করে গ্রামের ২৩ জন শিশুকে নিমন্ত্রণ করে সুভাষ বথাম। তার পর বন্দুকের ভয় দেখিয়ে তাদের ঘরের মধ্যে পণবন্দি করে রাখে সে। ২০০১ সালে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জেলের বাইরে আসে খুনে অভিযোগে অভিযুক্ত সুভাষ। অনেকেই মনে করছেন তারপর থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিল সে। কিন্তু তার জেরে যে সে এমন কাণ্ড ঘটাবে, তা কেউ বুঝতে পারেনি।

১১ঘণ্টার লড়াই শেষে মুক্ত ২৩ শিশু , পুলিশের গুলিতে মৃত বন্দুকবাজ, জনতার মারে মৃত তার স্ত্রী
১১ঘণ্টা পর পুলিশ বের করে আনছে শিশুদের 

বৃহস্পতিবার বিকেলে নিমন্ত্রিতরা যখন সকলেই তার বাড়িতে চলে আসে তখন একেবারে বন্দুকের নলের মুখে সে সকলকে পণবন্দি করে ফেলে। এই তালিকা থেকে সে বাদ দেয়নি নিজের স্ত্রী ও সন্তানকেও। বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলেও যখন কারও বাচ্চাই বাড়িতে ফেরেনি তখন প্রতিবেশীরা এসে অভিযুক্তের দরজায় ঘা দিতে শুরু করেন। সুভাষ তখন প্রতিবেশীদের সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করে এবং ঘোষণা করে দেয়, পুলিশকে যেন জানিয়ে দেওয়া হয় যে, সে পণবন্দিদের গুলি করে মেরে ফেলবে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পুলিশ জানিয়েছে, যখন তারা পিসিআর ভ্যান নিয়ে সেখানে হাজির হয় তখন নিজের বাড়ি থেকে ওই গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে সুভাষ। তাদের লক্ষ্য করে বোমাও ছোড়ে। সে বারবারই চিৎকার করে দাবি করছিল যে সে পুরোপুরি নির্দোষ, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসে সন্ত্রাসদমন শাখার কমান্ডো এবং কানপুর জোন ইনস্পেক্টর জেনারেলের নেতৃত্বে পুলিশবাহিনী।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
প্রায় এগার ঘণ্টা ধরে চলে স্নায়ুযুদ্ধ। বাচ্চাদের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকেই সবচেয়ে বেশি নজর ছিল পুলিশের। একইসঙ্গে চেষ্টা চলছিল অভিযুক্ত সুভাষকে নিরস্ত্র করে হেফাজতে নেওয়ার। প্রথমে তার সঙ্গে কথা বলে আলাপ-আলোচনার মধ্যে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু তাতে ফল না মেলায় শেষ পর্যন্ত সুভাষকে গুলি করে মারতে বাধ্য হয় পুলিশ। তার পরেই বন্দি শিশুদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
তাদের সঙ্গেই উদ্ধার করা হয় সুভাষের স্ত্রী ও কন্যাকে। কিন্তু স্থানীয় জনতা রাগের বশে আক্রমণ করে স্ত্রীকে। বেধড়ক মারধর করে তারা। তাদের দাবি, সুভাষের স্ত্রী সব জেনেশুনেই এই পরিকল্পনায় সায় দিয়েছিল। মারধরের খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে শুক্রবার সকালে মৃত্যু হয় তার। পুলিশ আপাতত তাঁদের নাবালিকা কন্যাটিকে নিজেদের কাছে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছে।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join