TRENDS

নার্সকে চড় মহিলা কনস্টেবলের, ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে তোলপাড় হুগলি, তদন্তের নির্দেশ দিলেন পুলিশ কমিশনার

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: দেশজুড়ে স্বাস্থ্য কর্মী ও চিকিৎসকদের প্রতি দুর্ব্যবহার এমনকি নিগ্রহের আভিযোগ উঠছে। সেই আভিযোগ এতটাই মারাত্মক যে কেন্দ্র সরকারকে অর্ডিন্যান্স জারি করতে হচ্ছে। এই আভিযোগ মূলত অজ্ঞ, কুসংস্কারগ্রস্ত মানুষদের বিরুদ্ধে। কখনও কখনও আভিযোগ করোনা আতঙ্কে ভোগা মানুষজনদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এবার যা ঘটল তা মারাত্মক, এক নার্সকে মারার আভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে সেই পুলিশ যাদের দায়িত্ব আরও বেশি করে বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে যাওয়া চিকিৎসক ও নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের রক্ষা করার।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে হুগলির চন্দননগরে। স্থানীয় মহকুমা হাসপাতালে ডিউটিতে আসার সময় মহিলা কনস্টেবলের হাতে নিগৃহিত হয়েছেন এক নার্স। অভিযোগ, বাদানুবাদ চলাকালীন এক মহিলা কনস্টেবল সপাটে নার্সের গালে চড় কষিয়েছেন। স্থানীয় একজনের মোবাইল ক্যামেরায় সেই চড় মারার দৃশ্য ধরা পড়ে। ওই ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। যা রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিকে, এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন চন্দননগরের মানুষ। সেবার মতো এক মহান কাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁকেই আইনরক্ষকের চড় মারার ঘটনায় সর্বত্র উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

জানা গেছে সোমবার রাত ৮টা নাগাদ সিঙ্গুর থেকে স্কুটি করে হাসপাতালে ডিউটিতে আসছিলেন ওই নার্স। সঙ্গে ছিলেন তাঁর হবু স্বামী। হাসপাতালের অদূরেই চন্দননগর থানার পুলিশ তাঁর স্কুটিকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। ওই তরুণী নিজেকে চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালের নার্স বলে পরিচয় দেন। স্কুটিতে লাগানো স্টিকারও দেখান। তিনি হাসপাতালে নাইট ডিউটিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলেও পুলিশকে জানান। তিনি এও বলেন, “প্রয়োজনে হাসপাতালে ফোন করে আমার পরিচয় জেনে নিতে পারেন।” কিন্তু নাছোড়বান্দা মহিলা কনস্টেবল তা মানতে নারাজ।

এরপর ওই নার্স বলেন, “আপনি যদি ফোন না করতে চান তাহলে শুধু শুধু অপদস্থ করার অর্থ কী?” এরপরই দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়ে যায়। ওই মহিলা কনস্টেবল তাঁর ক্ষমতা জাহির করতে নার্সের গালে সপাটে চড় কষিয়ে দেন। রীতিমতো অমানবিকভাবে ওই নার্স ও তার হবু স্বামীকে আটক করে চন্দননগর থানায় নিয়ে আসা হয়। খবর দেওয়া হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতাল সুপার চন্দননগর থানায় ছুটে আসেন। তারপরই দু’জনকে ছাড়া হয়।

এদিকে রাতের অন্ধকারে চরম অমানবিকএই ঘটনার দৃশ্য এক ব্যক্তি মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করেন। তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, ওই নার্স এই ঘটনার পরই রীতিমতো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সাধারণ মানুষও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। চন্দননগর পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর ঘটনার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর মুখে কুলুপ এঁটেছেন ওই নার্স।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join