TRENDS

করোনা কাল পেরিয়ে স্কুল খুললেই ছাত্রছাত্রী পিছু ২লাখ টাকার স্বাস্থ্য বীমা ! প্রস্তাব বিশেষজ্ঞ কমিটির

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনা কাল পেরিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ফের স্কুলমুখি করার জন্য পড়ুয়া পিছু ২লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমা করার কথা ভাবছে কর্ণাটক সরকার। স্কুল যাওয়ার পেছনে পড়ুয়া কিংবা তাদের অভিভাবকদের যাতে কোনও ধরনের ভীতি কাজ করে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই স্কুল পড়ুয়াদের উৎসাহ ও সাহস যোগাতেই এধরনের ভাবনা বলেই জানা যাচ্ছে। যদিও এখনও অবধি এটি একটি কমিটির সুপারিশ স্তরেই রয়েছে তবুও বিষয়টিকে মেনে নিতে চলেছে কর্ণাটক সরকার এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সরকারেরই একটি সূত্র থেকে। শুধু তাই নয়, মনে করা হচ্ছে আগামী দিনে এই পথে ভারতের অন্যান্য রাজ্য গুলিও হাঁটতে পারে।

দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ থাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। শুধু তাই নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে। এসব কথা মনে করেই বহু রাজ্য স্কুল খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিদায় অন্য দিকে তৃতীয় ঢেউয়ের হুঁশিয়ারী এরই মধ্যে চলছে দেশের একাধিক রাজ্যে স্কুল খোলার তোড়জোড়। এব্যাপারে যে কয়েকটি রাজ্যে তৎপরতা তুঙ্গে তার মধ্যে রয়েছে কর্ণাটক। করোনা পরিস্থিতিতে কীভাবে স্কুল চালু করা যায় তা নিয়ে অনেকটাই আলোচনা সারা হয়ে গিয়েছে কর্ণাটক সরকারের। স্কুল খোলার বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করেছে কর্ণাটক সরকার। যে কমিটির মাথায় রয়েছেন বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেবি শেঠি।

করোনা পরিস্থিতিতে কিভাবে সংক্রমণ এড়িয়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা নিরাপদে থাকতে পারে তা নিয়ে পর্যালোচনা করছেন বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরা।ডক্টর শেঠির নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি স্কুল খোলা নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে একটি সুপারিশ জমা দিয়েছে। স্কুলের প্রতিটি ছাত্র ছাত্রীর জন্য দু লাখ টাকার স্বাস্থ্য বীমার সুপারিশ করেছে কমিটি। এ প্রসঙ্গে কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে স্কুলে যেতে উৎসাহ বোধ করেন এবং তাদের অভিভাবকরাও যাতে তাদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহিত হন সে ব্যাপারে তৎপরতা নেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দু লক্ষ টাকার বীমার ব্যবস্থা করা হবে। এমন তৎপরতায় ইতিমধ্যেই বিশ্বের বহু দেশ নিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি।তবে সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়ায় অনেক রাজ্য স্কুল খোলার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে। কর্ণাটক সরকারের আশঙ্কা করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি সেখানেও বহু শিশু আক্রান্ত হতে পারে।তবে রাজ্যে স্কুল খোলা নিয়েই তৎপরতায় আরো বেশি সাবধানী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাদের বক্তব্য সংক্রমণ কিছুটা কমলেও তা নিয়ে আত্মতুষ্টির কোন জায়গা নেই। বরং এবার আরো বেশি সাবধানি হতে হবে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে চূড়ান্ত তৎপরতা নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। স্কুলে নিয়মিত পঠন-পাঠনের পাশাপাশি ছাত্রদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আর সে কারণেই যাবতীয় তৎপরতা নিয়েই এবার স্কুল খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কর্ণাটক সরকার। স্কুল খোলা নিয়ে সরকারকে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কমিটির সদস্যদের আশঙ্কা, এভাবে দিনের পর দিন স্কুল বন্ধ থাকলে বিপদ আরো বাড়বে। একদিকে গরিব ছাত্রছাত্রীরা যেমন অপুষ্টির শিকার হবে তেমনি শিশু শ্রমিক, বাল্যবিবাহের মত বিপদ মাথাচাড়া দেবে। সুতরাং সব ধরনের সর্তকতা নিয়ে অবিলম্বে স্কুল চালু করার তৎপরতা কর্নাটকে। সেই সতর্কতার পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য এই স্বাস্থ্যবিমা অনেকটাই উৎসাহ যোগাবে পড়ুয়াদের স্কুল মুখি হতে।

যদিও এরই মধ্যে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। প্রথম দিকে বলা হচ্ছিল শীতে কিংবা পুজার পরে আসতে পারে এই ঢেউ। কিন্তু ইদানিং বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন আগামী ৬ সপ্তাহ থেকে ৮ সপ্তাহ অর্থাৎ জুলাইয়ের শেষ থেকে আগষ্টের মধ্যে তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। সেদিকে নজর দিয়ে রাজ্য গুলির প্রতি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ রাখতে পারে কেন্দ্র। সেই পরামর্শ কী তাও নজর রাখছে রাজ্য।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join