TRENDS

করোনা কালেও কবি গানের মধ্য দিয়ে চৈতার চৈতাসিনী কে তুষ্ট করে পুজো হলো সাড়ম্বরে

Chandramani Saha

পলাশ খাঁ, গোয়ালতোড় :- গ্রামের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা চৈতাসিনী। বছরের দুদিন ধরে তাকে কবি গান শুনিয়ে তুষ্ট করার রীতি এখনো বিদ্যমান রয়েছে। গ্রামের পুরানো সেই ঐতিহ্য কে বজায় রেখে করোনা কালেও সেই ধারা বহাল রয়েছে । পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনীর চৈতা একটি বর্ধিঞ্চু গ্রাম। এই গ্রামের তিনি অধিষ্ঠাত্রী দেবী। সেই প্রথম দিন থেকেই গ্রামের কারো মঙ্গল কামনায় বা শুভ কাজ শুরু করার আগে মা চৈতাসিনীর পুজো দিয়ে কাজ আরম্ভ করার রেওয়াজ রয়েছে। প্রতিবছর এখ্যান যাত্রার পরের দুই দিন ধরে মায়ের আরাধনা করা হয় ধুমধামে। পুজো উপলক্ষে আয়োজন করা হয় মেলার। কবি গান, যাত্রা সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মা চৈতাসিনীর পুজোর প্রচলন কিভাবে হলো সে সম্বন্ধে গ্রামের বর্তমান প্রজন্মের সেভাবে কারো সঠিক ধারণা নেই। তবে গ্রামের বয়স্করা জানান, অনেকদিন আগে কার কথা। চৈতা ছিল জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের। ঝোপ জঙ্গলের মধ্যে বাঘের ভয় ছিল প্রচুর। মাঝে মাঝেই গ্রামবাসীরা বাঘের হামলার মুখে পড়তেন। সেই সময় কোনো একদিন এক সন্ধ্যায় এক নল খামরই নামে এক ব্যাক্তি বাড়ি ফিরে আসছিলেন পায়ে হেঁটে। এমন সময় চৈতা গ্রামে ঢুকার মুখেই তিনি একটি বাঘের দেখা পান। বাঘ দেখে তিনি ভয়ে আপন মনে বলে উঠেন মা রক্ষা করো।

কিন্তু চোরা না শুনে ধর্মের কথা। বাঘ তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে গর্জন করতে করতে । এদিকে নল খামরই এক মনে ভগবানের স্মরণ নিতে থাকে। কিন্তু কি আশ্চর্য। বাঘ এলেন কিন্তু তাকে কিছু না করেই তার সামনে এসে দাঁড়ালেন। কিছুক্ষন তার দিকে তাকিয়ে দেখার পর বাঘ রুপি সাক্ষাৎ মা চৈতাসিনী দেখা দিয়ে বলেন এখানে আমার পুজো কর। তাহলে গ্রামের সকলেই রক্ষা পাবি বলেই বাঘটি একটি পাথরে পরিনত হয়ে যায়। সঙ্গে তিনি পুজোতে কবি গান শোনানোর কথাও বলে যান। তারপর থেকে গ্রামে শুরু হয় মা চৈতাসিনীর পুজো।

শোনা যায় প্রথম দিকে পুজো খরচ গ্রামবাসীরা দিলেও কবি গানের যে দল আসিতো তাদের ভিরন পোষনের খিরচ দিতেন গ্রামের রাধাশ্যাম দুয়ারী। পরে তার ছেলেও কিছুদিন এই খরচ দিতেন৷ কিন্তু পরের দিকে আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ার কারনে খরচ দিতে অস্বীকার করেন তারা। তখন থেকেই পুজো খরচ গ্রামের মানুষই বহন করে আসছে আজ পর্যন্ত। মায়ের বর্তমান সেবাইত পাশের গ্রাম ভাবরিগ্যাড়ার শ্যামাপদ সিং। তিনি জানান, পুর্ব পুরুষদের আমল থেকেই এই পুজো করে আসছি বংশ পরম্পরায়।

পুজোর প্রতিমা বলতে হাতি ঘোড়া, বাঘ থেকে পাথর হয়ে যাওয়া সেই পাথর। বর্তমানে এক ভক্ত চার হাত যুক্ত মায়ের এক অপরুপ প্রতিমা গড়িয়ে দেন৷ সেই সময় থেকে চলে আসা এই পুজোর জৌলুশ বেড়েছে বই কমেনি। দুই দিন ধরে চলা এই মেলাতে বসে হরেক রকমের মনোহারি দোকান, খাবার দোকান, মিষ্টির দোকান প্রভৃতি। শুধু চৈতা নয় পাশাপাশি দু পাঁচটা গ্রামের মানুষও যোগ দেন এই মেলাতে। ফলে এই দুই দিন চৈতাসিনীর আশির্বাদে চৈতা হয়ে উঠে মিলন ক্ষেত্র।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join